---Advertisement---

এলএনজি সংকটে বাড়ছে লোডশেডিং শঙ্কা

By Suman Debnath

July 22, 2026 4:15 PM

এলএনজি সংকটে বাড়ছে লোডশেডিং শঙ্কা

---Advertisement---


দেশের অন্যতম ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।


জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালটি চালু করার কাজ চললেও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পাইপলাইনে সংরক্ষিত গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার থেকে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বৃদ্ধি


গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমে যেতে পারে।


এর পাশাপাশি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম যোগ হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বৃষ্টিপাতের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকলেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:  আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও অবৈধ ছাঁটায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন


শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত, বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট


গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না।


শুধু শিল্প খাতই নয়, রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক গ্রাহকরাও রান্নার গ্যাসের কম চাপের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।


দুটি এফএসআরইউর ওপর নির্ভরশীল এলএনজি সরবরাহ


দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে আসে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হওয়ায় একটি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটিও সারাদেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিকল্প উৎস বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


সিএনজি স্টেশন মালিকদের নতুন কর্মসূচি


এদিকে গ্যাস সংকটের মধ্যেই কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

আরও পড়ুন:  মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে নাগরিকদের নির্দেশনা | Amar Bangla BANGLADESH


সংগঠনটির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৫ সালে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হলেও গত এক দশকে পরিচালন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশ, ব্যাংক চার্জ, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই কমিশন বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটারে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্যাসের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের দাবি করেছেন তারা।


আমার বাঙলা/ রাব্বি


সংকট কাটতে অপেক্ষা কয়েক দিন


জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের আশা, বিকল এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত চালু হলে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে পাইপলাইনে চাপ পুনরুদ্ধার এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আমার বাঙলা/ রাব্বি



---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment