---Advertisement---

গ্যাস সংকটে রাজধানীতে বাড়ছে ভোগান্তি

By Suman Debnath

July 29, 2026 12:40 PM

গ্যাস সংকটে রাজধানীতে বাড়ছে ভোগান্তি

---Advertisement---


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। কিছু স্টেশনে সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালু থাকলেও গ্যাস নিতে চালকদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।


গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেকেই প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে তাদের দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


ধানমন্ডির এক সিএনজিচালক বলেন, “আগে দিনে একবার গ্যাস নিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এতে আয় অনেক কমে গেছে।”


ট্যাক্সিক্যাব চালক মিজান বলেন, গ্যাসের অভাবে নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রী ফিরিয়ে দিতে হওয়ায় চালক ও যাত্রী—উভয়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন।

আরও পড়ুন:  হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৭৪৫


চানখাঁরপুল এলাকার সিএনজিচালক সবুজ বলেন, কয়েকটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত এসে দেখেন স্টেশন বন্ধ। বাইরে ‘লাইনে গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। গাড়ি না চলালে আমাদের সংসার চালানো কষ্ট।


অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে বাড়তি ব্যয়ের চাপও বাড়ছে।


মিরপুরের বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, সকালে চুলা জ্বলে না, দুপুরেও একই অবস্থা। রাতে সামান্য গ্যাস এলে তখন রান্না করতে হয়। একটি তরকারি রান্না করতেও অনেক সময় লাগছে।


গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চললেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন।

আরও পড়ুন:  ‘বাইরে থাকার অনুভূতি হয়নি’—সালাউদ্দিন


অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।


সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।


মন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হবে না। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।


আমার বাঙলা/ রাব্বি



---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment