মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় চোর সন্দেহে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাখার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মতিউর রহমান মাঝি (৫০), পিতা—মৃত রব মাঝি এবং উজ্জ্বল মাঝি (৪৫), পিতা—আব্দুর রশিদ মাঝিকে রোববার রাত পোনে ১১ টার দিকে আটক করেছে টঙ্গীবাড়ি থানা পুলিশ। তারা উভয়েই জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নিতিরা গ্রামের বাসিন্দা।
একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার কিশোরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, গত ২৬ জুলাই রোববার বিকেলে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নিতিরা এলাকায় চোর সন্দেহে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি জেলা পুলিশের নজরে এলে টঙ্গীবাড়ি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মো. শাহিন (১৪) নামে ওই কিশোরকে মতিউর রহমান মাঝির বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। শাহিনের বাবার নাম আজগর আলী। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালী গ্রামে। বর্তমানে তিনি টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নিতিরা গ্রামের গণি শেখের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
টঙ্গীবাড়ি থানার (ওসি) মোহাম্মদ শামীম আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া কিশোরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পুলিশ বলছে, কোনো ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করে শারীরিক নির্যাতন বা গাছে বেঁধে রাখা আইনসম্মত নয়। কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই সঠিক। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার বাঙলা/ জামান
Leave a Comment