‘এঁরাও সমাজের অংশ, সম্মান পাওয়ার অধিকারী’— এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় নিয়ে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের

By Suman Debnath

July 27, 2026 11:31 AM

‘এঁরাও সমাজের অংশ, সম্মান পাওয়ার অধিকারী’— এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় নিয়ে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের


হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মোহন ভাগবত বলেন, তাঁরা সমাজেরই অংশ এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার তাঁদেরও রয়েছে। ভারতীয় ঐতিহ্যও তাঁদের অস্তিত্বকে স্বীকার করে বলে দাবি করেন তিনি।

এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের মানুষদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনও কারণ নেই। তাঁরা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সমান সম্মান পাওয়ার অধিকারী। হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে এই বার্তাই দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় ঐতিহ্য ও সনাতন ধর্মে এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব বরাবরই স্বীকৃত হয়েছে এবং তাঁদের সমাজের মূল স্রোত থেকে আলাদা করা উচিত নয়।

রবিবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মোহন ভাগবত বলেন, এই সম্প্রদায়ের মানুষের অস্তিত্ব ভারতীয় সমাজে নতুন নয়। তাঁর মতে, কেউ প্রকৃতিগতভাবে এমন হন, আবার কারও মানসিক প্রবণতা এই রকম হতে পারে। সমাজে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন এবং বিভিন্ন স্তরে তাঁদের জন্য নীরবে কাজও হয়েছে।

আরও পড়ুন:  এসআইআর বিতর্কে কমিশনের অন্দরেই বিরোধ, ব্যাখ্যা চান প্রাক্তনরা

ভাগবত বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্য এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না। তাঁর কথায়, “যাঁরা এই ধরনের পরিচয়ের অধিকারী, তাঁরাও মানুষ। তাঁদেরও বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং তাঁরা সম্মান পাওয়ার যোগ্য।” তিনি আরও বলেন, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়কে সমাজ থেকে একঘরে করা বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া উচিত নয়। সামাজিক জীবনের বিস্তৃত পরিসরে তাঁদেরও একটি স্বীকৃত স্থান থাকা প্রয়োজন।

আরএসএস প্রধানের মতে, অতীতে ভারতীয় সমাজ এই সম্প্রদায়ের প্রতি বৈরী মনোভাবের বদলে তুলনামূলকভাবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিল। তিনি দাবি করেন, এই সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা, দেব-দেবী এবং আধ্যাত্মিক নেতৃত্বও রয়েছে। কুম্ভ মেলার মতো ধর্মীয় আয়োজনে তাঁদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অযথা বিতর্ক না বাড়িয়ে বাস্তবসম্মত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাই বেশি প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:  ফের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক, টানা তিন দিন বন্ধ পরিষেবা! সপ্তাহান্ত মিলিয়ে ভোগান্তি পাঁচ দিনের

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন মোহন ভাগবত। ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় সভ্যতা ও হিন্দু ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন উদাহরণে লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্যের অস্তিত্বের উল্লেখ রয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এই সম্প্রদায়কে সমাজের অংশ হিসেবেই দেখা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার যে অংশে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হত, তা বাতিল করে। সেই রায়কে আরএসএস স্বাগত জানিয়েছিল। তবে সমলিঙ্গের বিবাহের প্রশ্নে সংগঠনটি সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং সে বিষয়ে তাদের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment