ধর্মতলায় (Dharmatala) ছাত্র বিক্ষোভকে ঘিরে অশান্তির ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। বাম ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিশানা করে কড়া মন্তব্য করলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh)। তাঁর অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার এবং প্রশাসন আইন মেনেই তার জবাব দেবে।
নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুক্রবার শিয়ালদহ (Sealdah) থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিল হয়। মিছিলের শেষে অশান্তির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ। সাংবাদিকদের হেনস্থা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার পর এসএফআই (SFI) ও ডিএসও (DSO)-র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মহলের একাংশ অভিযোগ তুললেও, দুই সংগঠনই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ধর্মতলার ঘটনায় তাদের কোনও ভূমিকা নেই।
রবিবার পানিহাটি (Panihati)-র বিজয়পুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্জুন সিং বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, যদি আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
বামপন্থী রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজ্যে যে ধরনের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ ছিল, তা মানুষ ভোলেনি। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ধর্মতলায় সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে গুণ্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। তদন্তে যদি আরও কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলে, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ধর্মতলার ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।
ধর্মতলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
Leave a Comment