আর্থিক প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে পুরুলিয়ায় গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি কিরিটি আচার্য। তদন্তে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
পুরুলিয়ায় (Purulia) আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর জেলা সভাপতি কিরিটি আচার্য (Kiriti Acharya)। শনিবার রাতে তাঁকে আটক করে পুলিশ। রবিবার ধৃত ছাত্রনেতাকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিরিটি আচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই কিরিটি আচার্যকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। আগে সমাজমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অনেকটাই নীরব ছিলেন। এলাকাতেও তাঁর উপস্থিতি কমে গিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের পরও কিরিটি আচার্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-ঘনিষ্ঠ শিবিরের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। অতীতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমাজমাধ্যমে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপও অনেকটাই কমে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, কিরিটি আচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেই পুরুলিয়ায় আরেক তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। পুরুলিয়া জেলা পরিষদ (Purulia Zilla Parishad)-এর সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Sujay Bandyopadhyay)-কে মহিলাদের জন্য চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-য় অনিয়মে মদতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেই মামলায় তাঁর ভাইপো এবং পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতি (Puncha Panchayat Samiti)-র সহ-সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় (Kripasindhu Bandyopadhyay)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতির গ্রেপ্তারি ঘিরে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আদালতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে।

Leave a Comment