জন্মের মাত্র ৭১ দিনের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে নিজেদের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। এবার সেই সাফল্যের জোরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি ভোটের ময়দানে নামবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
গত ১৫ মে ২০২৬-এ একটি মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant)-এর মন্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিরোধী শিবির ও সমাজমাধ্যমের একাংশের দাবি ছিল, সমাজকর্মী এবং বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে ততক্ষণে বিষয়টি জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়।
এই ঘটনার পরদিন, ১৬ মে, আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। প্রথম দিকে সংগঠনটির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার ও প্রতিবাদে। পরে NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে সামনে রেখে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেন। বিদেশ থেকে ভারতে ফিরে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ শুরু হওয়া বিক্ষোভে যোগ দেন। আন্দোলন যত জোরদার হতে থাকে, ততই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আরও প্রবল হয়ে ওঠে।
এই আন্দোলনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির সমর্থন আন্দোলনকে আরও শক্তি দেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই চাপেরই ফল। যদিও সরকারিভাবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে এই আন্দোলনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, CJP নেতৃত্ব একে নিজেদের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরছে।
আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রথমে আদালত ভিডিও দেখার সময় নেই বলে মন্তব্য করলেও, পরে প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশও আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বলেন, প্রধান বিচারপতির সেই মন্তব্য না এলে হয়তো তিনি ভারতে ফিরে আন্দোলনের নেতৃত্বই দিতেন না। তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংগঠনের এক শীর্ষ নেতার দাবি, এত অল্প সময়ের মধ্যে আন্দোলনের দাবি পূরণ হবে, তা তাঁরা নিজেরাও ভাবেননি। আপাতত সাফল্যের মূল্যায়ন চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সামান্য ভুলও সংগঠনের ভবিষ্যৎকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ ইতিমধ্যেই আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party)-র উত্থানের সঙ্গে CJP-র প্রাথমিক পথচলার তুলনা টানতে শুরু করেছেন। আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার সেই ইতিহাস ভারতের রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে CJP আদৌ নির্বাচনী রাজনীতিতে নামবে কি না এবং নামলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এরই মধ্যে CJP-র আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থের অভিযোগও উঠেছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সরকারের হাতে এখনও প্রকাশযোগ্য কোনও তথ্য নেই।
আগামী বছরে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাট ও উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনে CJP প্রথমবারের মতো প্রার্থী দেবে কি না, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়। সংগঠন এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
Leave a Comment