লোকসভা থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্রোহী মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

By Suman Debnath

July 22, 2026 3:20 PM

লোকসভা থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্রোহী মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ


ঘরে-বাইরে চাপে পড়ে গেলেন সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে সুপ্রিমোর সঙ্গে বাদানুবাদ এবং লোকসভায় মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে গোটা বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। এই আবহে বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে কল্যাণ আর থাকতে পারবেন না লোকসভায়। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা। মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। আর সেই প্রেক্ষিতেই সাসপেন্ড করা হলো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য এবং অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন অধুনা এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। এই অভিযোগের পরই তৎপরতা বেড়ে যায় সংসদে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের প্রস্তাব আনেন মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তারপরই তৃণমূল সাংসদকে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সাসপেনশনের খবর চাউর হতেই বিদ্রোহী শিবিরের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘সংসদের ভিতরে এবং বাইরে দুই জায়গাতেই অন্য মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার এই কাজই করে এসেছেন তিনি।’

আরও পড়ুন:  দেহব্যবসা-মানবপাচারের পর্দাফাঁস, অভিনেত্রীকে উদ্ধার করল পুলিশ, চলছে তল্লাশি

অন্যদিকে বুধবার লোকসভায় অধিবেশন চলাকালীন এনসিপিআই সাংসদদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে তাঁদের একাংশকে লক্ষ্য করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া ওই গোষ্ঠীর সাংসদরা সঙ্গে সঙ্গেই এই আচরণের প্রতিবাদ জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেন। এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে সেই আলোচনার পরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

তাছাড়া এদিন দুপুর ২টায় লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রাখার স্বার্থে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চলতি বাদল অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সংসদে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সংসদের ভিতরে কোনও সাংসদের আচরণ যদি বিধিভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে, তবে সেটা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন। ওই প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির পরই স্পষ্ট হয়ে যায় সিদ্ধান্ত। তবে এই বিষয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। যাঁরা বিদ্রোহীদের রক্ষা করছেন, তাঁরাই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছেন এবং যে অবস্থান নিয়েছেন সেটা আমার মতে সম্পূর্ণ সঠিক।’

আরও পড়ুন:  খরস্রোতা নালায় পড়ল পুণ্যার্থীদের গাড়ি, ৩ শিশু-সহ মৃত ৮

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment