আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

মেলা চলাকালীন পশ্চিম পিলাকে একাধিক বাড়িতে চুরি, এলাকায় চাঞ্চল্য!

By Bahadur Tripura

Published on: January 13, 2026

Follow Us

---Advertisement---

জোলাইবাড়ি, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার: মন্ডল সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানের অদৃশ্য লড়াইয়ে সুপার ফ্লপ পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব। শনিবার উৎসব শেষ হতেই উৎসব কমিটির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন মানুষ। মেলায় নিরাপত্তার ঘাটতি, সামঞ্জস্যহীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্হানীয় শিল্পীদের প্রতি বঞ্চনা, প্রচারের ঘাটতি সহ, মেলার সময় এগিয়ে নিয়ে আসায় অন্যবারের মত এবার মেলা জমেনি বলেও অভিযোগ মানুষের৷ শুক্রবার মেলার শেষ দিনে মানুষের ভীড় হলেও মানুষকে আটকে রাখার মত কোন অনুষ্ঠান না থাকায় মানুষ বেশিক্ষণ থাকেননি মেলা প্রাঙ্গণে। রাত একটু বাড়তেই খাবারের দোকানগুলিতে ফুরিয়ে যায় খাবার সামগ্রী৷ এক সময়ে মেলায় মদ আর মাংস ছাড়া খাওয়ার মত তেমন কোন খাবার ছিলো না বলেও অভিযোগ মেলায় যাওয়া লোকজনদের। পিলাক উৎসবের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক মঞ্চে দক্ষিন জেলা সহ রাজ্যের শিল্পীদের আরও বেশি বেশি করে সুযোগ না দিয়ে কনসার্ট লাগিয়ে দেওয়ায় উঠতি বয়সী মাতাল ছেলেদের নাচানাচি দেখে মহিলা সহ অনান্য মানুষজন মেলা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ।

পিলাক উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে স্কুল মাঠে মেলা শুরু হওয়ার সময় থেকে পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মঞ্চে বসানো হলেও এবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র দাসকে মঞ্চ জায়গা দেওয়া হয়নি। গায়ের জোরে শোরে বিজেপির হোমড়া চোমড়ারা মঞ্চ আলো করে বসেছিলো বলেও অভিযোগ।উৎসবের মঞ্চে পিলাক সভ্যতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মত কোন উদ্যোগ ছিলো না। উল্টো উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শাসক দলের নেতারা মঞ্চ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষন ভাষনবাজি করেছেন। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে ১৯৯৮ সাল থেকেই শুরু হয় যাত্রার আসর। পিলাক উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রায় ৬০ বছর বয়সী জোলাইবাড়ির ঐতিহ্যবাহী যাত্রাদল ত্রিপুরেশ্বরী এমেচ্যার যাত্রাপার্টি পুনরুজ্জীবিত হয়। যাত্রাদলের নির্দেশক গোপন বিশ্বাস হতাশার সুরে জানান, লোকশিক্ষার অঙ্গ যাত্রাপালাকে তারা বহু লড়াই করে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও ২০১৮ সাল থেকে পিলাক উৎসবে কোন যাত্রাদলকে ডাকা হয় না। উৎসবের হিসাবপত্র নিয়েও উঠেছে বিস্তর অভিযোগ। আর্থিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে এবার নগদ লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন মেলা কমিটির কনভেনর মহকুমা শাসক সঞ্জীব চাকমা।এরপরেও পশ্চিম পিলাক পঞ্চায়েতের দন্ডমুন্ডের কর্ত্রী এক মহিলা নানাভাবে মেলা থেকে টাকা হাতিয়েছেন বলেও অভিযোগ। মহিলার আস্পর্ধা এতটাই বেড়েছে যে কদুন আগে এক টিসিএস অফিসার পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নের কাজ দেখতে গেলে তার কাছেও টাকা চেয়ে বসেন এই মহিলা। মেলার খরচে স্বচ্ছতা আনতে অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্হা করা হলেও শাসক দলের একাংশ মাত্ববর মেলা চত্বরে মদ মাংসের ইজারা নিয়ে টাকা কামিয়েছে বলেও অভিযোগ। মেলায় প্রদর্শনী মন্ডপ খুলতে গিয়েও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক – কর্মচারীদের। জনে জনে নেতাদের ম্যানেজ করে স্টল বানাতে হয়েছে বলেও জানান তারা৷ শুক্রবার রাতে প্রদর্শনী মন্ডপে রাখা ফুলের টব সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র,কৃষি দপ্তরের স্টলে কৃষকদের উৎপাদিত সামগ্রীগুলি যে যাঁর মত করে বাড়ি নিয়ে চলে গেছে শাসক দলের হোমড়াচোমড়ারা।


মেলার প্রথম দুই দিন বিক্রি একেবারেই ছিলো না বলে জানান দোকানীরা। অতিরিক্ত শীতের কারনে প্রথম দুই জন সমাগম তেমনটা হয়নি। তৃতীয় দিন কিছুটা ভীড় হলেও মেলা প্রাঙ্গণের চরম অব্যবস্হা, মাতালের উৎপাত দেখে মেলা ছেড়ে পালিয়ে যায় মানুষ। উৎসবের শেষ রাতে মেলা চত্বর থেকে চুরি হয়েছে দুইটি মোটর সাইকেল। একই রাতে মেলা প্রাঙ্গন লাগোয়া সাহাপাথর এলাকার দত্ত পাড়ার দেবব্রত দত্তের বাড়ির দরজা ভেঙে চোরের দল ৫০ হাজার নগদ টাকা সহ স্বর্নলংকার নিয়ে যায়। চুরি হয় বলিরপাথরের নেপাল করের বাড়িতে। মেলার দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার রাতে পিলাকের পল্লীমঙ্গল পাড়ার নারায়ণ সুর, মধ্যপাড়ার সুবীর দাস ও কলোনির গোবিন্দ মজুমদারের দোকানে হানা দেয় চোরের দল। চোরেরা ঘরে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে সুবীর দাস বাড়িতে এসে পড়ায় চোরেরা জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়।শনিবার দিনভর কেনাবেচা হলেও আগের মত ব্যবসা ভালো হয়নি বলেও জানিয়েছেন বেশিরভাগ দোকানী। এইভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলিতে পিলাক উৎসবে আর মানুষ আসতে চাইবে না বলেও আশন্কা করছেন জোলাইবাড়ির মানুষ।

Bahadur Tripura

Journalist

Leave a Comment