পুরীর রথযাত্রা ঘিরে বড় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই ভক্তের। প্রবল বৃষ্টি এবং বিপুল জনসমাগমের মধ্যে গ্র্যান্ড রোডে বিশৃঙ্খলার জেরে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রথযাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ওড়িশা সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি পদপিষ্টের ঘটনা নয়; বৃষ্টি ও শারীরিক অসুস্থতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রথে শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে তোলার সময় লক্ষাধিক ভক্ত গ্র্যান্ড রোডে উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, প্রবল বৃষ্টি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে একাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন আহত হন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে একজনের বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। অন্য একজন, প্রায় ৪৫ বছর বয়সি ভক্ত, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিং রাতে জানান, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বক্তব্য, দুই ভক্তের মৃত্যু শ্বাসরুদ্ধ হওয়া এবং হৃদ্রোগের কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওড়িশা দমকল বিভাগের ডিজি উমাশঙ্কর দাস জানান, বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বহু ভক্ত শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।
রথ টানার সময় একটি দড়ির বেষ্টনী ভেঙে পড়ায় আরও কয়েকজন ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবারই রথযাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসন জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পুনরায় রথযাত্রা শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের দাবি, এ বছর প্রায় ন’লক্ষ ভক্ত রথযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোটা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং কোথাও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি বা জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ঘটেনি।
তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতি বছরই পুরীর রথযাত্রায় বিপুল ভিড়ের কারণে নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। এ বারও উন্নত জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দাবি করা হলেও দুর্ঘটনার পর সেই ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন নজর, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপর।
Leave a Comment