বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর স্মৃতি এখনও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মনে জ্বলজ্বল করলেও, ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ ট্রেভর মর্গান স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—এবার প্রতিশোধ নয়, লক্ষ্য হওয়া উচিত আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছনো।
জন্ম ইংল্যান্ডে হলেও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে থাকেন ট্রেভর মর্গান। ১৯৮৬ সালের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল এখনও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন। বিশেষ করে দিয়েগো মারাদোনার দুই বিপরীতধর্মী গোল—একদিকে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’, অন্যদিকে পাঁচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা অসাধারণ একক প্রচেষ্টার গোল—আজও তাঁকে বিস্মিত করে।
মর্গানের কথায়, এত বছর পর এসে প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনও অর্থ নেই। তাঁর মতে, বর্তমান ফুটবলে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি রয়েছে। ফলে অতীতের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ অনেক বেশি। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল ইংল্যান্ড যেন নিজেদের সেরাটা খেলতে পারে এবং ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে সফল হয়।
তবে ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচের যন্ত্রণা যে পুরোপুরি মুছে গিয়েছে, এমনটা বলতেও রাজি নন তিনি। বরং মর্গান মনে করিয়ে দেন, হ্যান্ডবলের গোল নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, ততটাই গুরুত্ব পাওয়া উচিত মারাদোনার দ্বিতীয় গোলটিরও। তাঁর মতে, যদি একই ঘটনা ইংল্যান্ডের পক্ষে ঘটত এবং দল জিতত, তাহলে ইংরেজ সমর্থকরাও হয়তো সেটিকে ভিন্ন চোখে দেখতেন।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথে বিতর্ক অবশ্য শুধু ১৯৮৬-তেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৬৬ সালে আন্তোনিও রাত্তিনের লাল কার্ড কিংবা ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের বহিষ্কার—এই দুই ঘটনাও দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলেছে। ফলে এবারও রেফারিং নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনা নাকি অতিরিক্ত সুবিধা পায়।
এই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন মর্গান। তাঁর বক্তব্য, মাঠে কোন পরিস্থিতিতে কার্ড দেখানো হবে, তা সম্পূর্ণ রেফারির বিচারবোধের উপর নির্ভর করে। এক একজন রেফারির সিদ্ধান্ত এক এক রকম হতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতিত্ব বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য মাঠের দুই তারকা। একদিকে ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার ভরসা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে দুরন্ত ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। মর্গানের মতে, বেলিংহ্যামকে আটকানো যেমন কঠিন, তেমনই মেসির বিরুদ্ধে কোনও পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। কারণ বছরের পর বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক লড়াই তাই শুধু অতীতের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনবে না, নতুন এক অধ্যায়েরও জন্ম দিতে পারে। ইংল্যান্ড কি বহু বছরের হতাশা কাটিয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছবে, নাকি আবারও শেষ হাসি হাসবে মেসির দল—সেই উত্তর মিলবে মাঠেই।
Leave a Comment