---Advertisement---

‘শোয়েব-আসিফরা মাদক পাচার করত ভারতে’, সেই কারণেই মৃত্যু উলমারের, দাবি প্রাক্তন আমলার

By Suman Debnath

July 15, 2026 11:45 AM

‘শোয়েব-আসিফরা মাদক পাচার করত ভারতে’, সেই কারণেই মৃত্যু উলমারের, দাবি প্রাক্তন আমলার

---Advertisement---


ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সংবেদনশীল আবহে ফের সামনে এল এক বিস্ফোরক অভিযোগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আধিকারিক আরভিএস মণি দাবি করেছেন, পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটারকে ব্যবহার করে ভারতে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হতো। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ বব উলমার এই কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন বলেই তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও এই দাবির কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

এক সাক্ষাৎকারে আরভিএস মণি বলেন, ২০০৬ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দল বা অন্য কোনও প্রতিনিধি দল ভারতে এলে তাদের সঙ্গে মাদক আনার চেষ্টা করা হতো। তাঁর দাবি, সেই মাদক ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যেই আনা হতো।

প্রাক্তন আমলার অভিযোগ, পাকিস্তানের তৎকালীন কোচ বব উলমার ক্রিকেটারদের মাধ্যমে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর কথায়, এই অবস্থানের কারণেই উলমারকে মূল্য দিতে হয়েছিল। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীন উলমারের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটির নেপথ্যে মাদক পাচারচক্রের ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সরকারি তদন্তে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

আরও পড়ুন:  হোয়াইটওয়াশের পর শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাখ্যা— 'পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারিনি আমরা'

আরভিএস মণি আরও দাবি করেন, ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপের অর্থের একটি বড় অংশ মাদক ব্যবসা থেকে আসত। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবেই ভারতে মাদক পাচারের চেষ্টা চলত। তবে এই মন্তব্যও তাঁর ব্যক্তিগত দাবি, যা নিয়ে কোনও সরকারি নথি বা বর্তমান তদন্তের উল্লেখ তিনি করেননি।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে তাঁর ক্রিকেটারদের নিয়ে করা মন্তব্য। মণির দাবি, শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ-এর মাধ্যমেও মাদক পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দুই ক্রিকেটার মাদক বহনের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন এবং পরে পাকিস্তানের দূতাবাস তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফ ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। তাঁদের শরীরে নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় এবং ভারতের মাটিতে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকেও তাঁদের বাদ দেওয়া হয়। তবে ডোপিংয়ে ধরা পড়া এবং মাদক পাচারের অভিযোগ—এই দুই বিষয় এক নয়, এবং ডোপিং সংক্রান্ত সেই ঘটনার সঙ্গে মাদক পাচারের প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের কোনও সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।

আরও পড়ুন:  লর্ডসের অনার্স বোর্ডে ইতিহাস গড়ে আবেগে ভাসলেন ক্রান্তি গৌড়

আরভিএস মণির আরও দাবি, শুধু এই দুই ক্রিকেটার নন, পাকিস্তানের আরও কয়েকজন ক্রিকেটার এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁদের নাম তিনি প্রকাশ করেননি। উল্লেখ্য, মণি ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে কর্মরত ছিলেন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment