---Advertisement---

মেসির সামনে প্রথমবার! তবু ভয় নয়, পিকফোর্ডের হুঙ্কার— ‘শুধু মেসিকে আটকাতে নামছি নাকি?’

By Suman Debnath

July 14, 2026 5:15 PM

মেসির সামনে প্রথমবার! তবু ভয় নয়, পিকফোর্ডের হুঙ্কার— ‘শুধু মেসিকে আটকাতে নামছি নাকি?’

---Advertisement---


সামনে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি, ছ’টি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবল কিংবদন্তি। তাঁকে প্রথমবার মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে চলেছেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। কিন্তু বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের এক নম্বর গোলকিপারের গলায় ভয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সুর।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল পিটার শিলটনের। ইতিমধ্যেই তা ভেঙে দিয়েছেন পিকফোর্ড। এবার সামনে মেসি। তবে তাঁর মতে, আর্জেন্টিনাকে শুধু একজন ফুটবলারের দল ভাবলে ভুল হবে, শুধু মেসি নন, এগারোজনকেই রুখতে চান তিনি।

২০০২-এর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের স্মৃতি এখনও স্পষ্ট পিকফোর্ডের মনে। তখন তাঁর বয়স মাত্র আট।পিকফোর্ড বলেন, ‘মনে আছে, স্কুলে মেঝেতে বসে ছিলাম। শিক্ষক টেলিভিশন এনে চালিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তটা কোনও দিন ভুলব না’।

তবে মেসিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকোননি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক। ‘ও (মেসি) সারা কেরিয়ারে অসংখ্য গোল করেছে, আরও অসংখ্য গোলে অবদান রেখেছে। ছোটবেলা থেকে যাঁকে দেখে বড় হয়েছি, এতদিন পরে তাঁর বিপক্ষে খেলতে পারব— এ সত্যিই দারুণ অনুভূতি।‘

আরও পড়ুন:  আর্জেন্টিনা–মিশর বিতর্কে ফিফার রেফারিদের পাশে কোলিনা

তবে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। ‘আমরা সবাই জানি মেসি কতটা ভালো ফুটবলার। কিন্তু আমরা এটাও জানি আর্জেন্টিনা কতটা শক্তিশালী দল। তাই শুধু মেসিকে নিয়েই ভাবলে চলবে না। ওদের অন্য শক্তির দিকগুলোও মাথায় রাখতে হবে, আবার কোথায় দুর্বলতা আছে, সেটাও কাজে লাগাতে হবে’, বলেন পিকফোর্ড।

থমাস টুখেলের অধীনে এই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি কী? পিকফোর্ডের উত্তর, দলের ঐক্য। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলি, খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য একটা দলকে অনেক দূর নিয়ে যায়। তার পর আসে ফুটবল দক্ষতা। কিন্তু আমাদের মতো ঐক্য যদি দলে থাকে, তা হলে সেটাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে’।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে রেফারিং বিতর্ক কিংবা প্রতিপক্ষকে মানসিক চাপে ফেলার নানা কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতেও বিচলিত নন পিকফোর্ড। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “পুরো টুর্নামেন্টে সবাই দেখেছে, ট্রফি জেতার জন্য আমাদের কতটা তাগিদ রয়েছে। কিন্তু আমরা কোনও ঝামেলা বা হাতাহাতিতে জড়াইনি। রেফারির সিদ্ধান্ত কখনও আমাদের পক্ষে যাবে, কখনও বিপক্ষে। আমরা শুধু আবার নিজেদের গুছিয়ে নিই এবং ফুটবলকেই কথা বলতে দিই।”

আরও পড়ুন:  আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার পর মেসি বলেছেন সংখ্যা 'কিছুই মানে না'

তিনি আরও বলেন, “জ্যারেল কোয়ানসার (নির্বাসনের ঘটনা) ছাড়া আমাদের আর কোনও সাসপেনশন হয়নি। এটাই আমাদের মানসিকতার প্রমাণ। আমরা এসব ফাঁদে পা দিই না। আমরা শুধু মনোযোগ বজায় রাখি এবং একসঙ্গে লড়াই করি।”

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই ইতিহাস, আবেগ এবং চাপ। একদিকে মেসির শেষ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ১৯৬৬-র পর প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ইংল্যান্ড। সেই মহারণের আগে পিকফোর্ডের বার্তা স্পষ্ট— মেসিকে সম্মান করবেন, কিন্তু ভয় নয়। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য একটাই, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment