তামিলনাড়ুতে গো-হত্যা নিষিদ্ধের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

By Suman Debnath

July 13, 2026 5:25 PM

তামিলনাড়ুতে গো-হত্যা নিষিদ্ধের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের





তামিলনাড়ুতে গো-হত্যা নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে রাজ্যে এখনই গো-হত্যার উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। তামিলনাড়ু সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের মতামতও তলব করেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাজ হাইকোর্টের শেষ অংশে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত ওই নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। আদালতের মতে, বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

গত মে মাসে কোয়েম্বাটোরের বাসিন্দা তথা ‘ইন্ডু মক্কল কাচ্চি’-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কে সূর্য প্রশান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্যে গোহত্যা হচ্ছে এবং প্রশাসন তা আটকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মামলার শুনানিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অতিরিক্ত ডিজি আইনশৃঙ্খলাকে ১৯৭৬ সালের সরকারি নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:  বেঙ্গালুরুতে নকল ক্যানসারের ওষুধ সরবরাহ চক্রের হদিশ, নজরে ৯০টিরও বেশি হাসপাতাল

আদালত জানায়, ইদ হোক বা অন্য কোনও দিন রাজ্যের কোথাও গরু বা বাছুর জবাই করা যাবে না। আদালত সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলে, গরু ও বাছুর সংরক্ষণ করলে দুধ উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। আদালতের মন্তব্য, গোহত্যা কোনও বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা নয়।

এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের সরকার। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ তামিলনাড়ুর প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে জানান, রাজ্যে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণে একাধিক আইন রয়েছে। এসব আইনে কোথায়, কীভাবে এবং কোন শর্তে পশু জবাই করা যাবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। কিন্তু কোনও আইনেই সম্পূর্ণ গোহত্যা নিষিদ্ধ করার বিধান নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালতের এই নির্দেশ কার্যত নতুন আইন তৈরির সামিল যা বিচারব্যবস্থার এক্তিয়ারের বাইরে।

আরও পড়ুন:  শহীদ উধম সিংহের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য ভগবন্ত মানের, পাঞ্জাবে আপ সরকারের নতুন অঙ্গীকার

তামিলনাড়ু সরকার বিশেষভাবে ১৯৫৮ সালের তামিলনাড়ু প্রাণী সংরক্ষণ আইনের কথা তুলে ধরে। ওই আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সের বা প্রজনন ও কৃষিকাজের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়া গরুকে নির্দিষ্ট সরকারি শংসাপত্র বা অনুমোদনের ভিত্তিতে জবাই করা যেতে পারে। তাই হাইকোর্টের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ, যে আইন রয়েছে তার পরিপন্থী বলে দাবি করে রাজ্য সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত ১৯৫৮ সালের আইনই কার্যকর থাকবে। সেক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে গরু জবাইয়ের অনুমতি মিলবে। তবে এই মামলার চূড়ান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য সরকার, আবেদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment