নবারুণ চক্রবর্তী, ২০শে ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী শক্তির দ্বারা সংবাদপত্র ভবন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণের ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ায় এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় বিলোনিয়া প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বিলোনিয়া এক নম্বর টিলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে বিকেআই কর্নারের জাতীয় পতাকার নিচে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কবি কৃষ্ণ কুসুম পাল, বিশিষ্ট চিকিৎসক জগদীশ চন্দ্র নমঃ, বিশিষ্ট শিল্পী বিপ্লব মজুমদার, সঙ্গীত শিল্পী প্রঙ্কা ভট্টাচার্য, বিলোনিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র গোপ, সমাজসেবী গৌতম সরকার, কাউন্সিলর অনুপম চক্রবর্তী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিটন সাহা, সুমন পাল সহ বিলোনিয়া প্রেস ক্লাবের সম্পাদক স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
মিছিল শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র গোপ বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। মেধাবী ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎকে বিপথে পরিচালিত করে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলার মসনদে বসার ষড়যন্ত্র করছে। এর ফলে বাংলাদেশে সুস্থ সংস্কৃতি আজ গভীর সংকটে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, উগ্র জেহাদি শক্তি নিরীহ মানুষের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম হত্যালীলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আর বেশিদিন চলতে দেওয়া যায় না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে জেহাদি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত বক্তারা একযোগে দাবি জানান, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক পরিসরের উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবাদ সভা শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।









Leave a Comment