আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

হারিয়ে যাচ্ছে আন্তরিকতায় ভরপুর গ্ৰিটিংস কার্ডের অস্তিত্ব! বাড়ছে ডিজিটাল যান্ত্রিকতা!

By Mrinmoy Roy

Published on: December 18, 2025

Follow Us

---Advertisement---

ত্রিপুরা টিভি | তেলিয়ামুড়া, ১৮ই ডিসেম্বর: নতুন বছর মানেই শুভেচ্ছা, শুভকামনা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে অনুভূতির আদান–প্রদান। এক সময় এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি ও গ্রিটিংস কার্ড। নববর্ষ এলেই ডাকঘরগুলোতে বাড়ত ব্যস্ততা। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যমে মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে শুভেচ্ছা বার্তা, তবে প্রশ্ন উঠছে—এই সহজতার আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে আন্তরিকতার উষ্ণতা?
এক দশক আগেও নববর্ষের আগে মানুষ সময় নিয়ে কার্ড বাছতেন, নিজের হাতে শুভেচ্ছা লিখতেন এবং ডাকযোগে পাঠাতেন। সেই চিঠি বা কার্ড প্রাপকের হাতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগলেও, অপেক্ষার আনন্দ এবং ব্যক্তিগত স্পর্শ ছিল অনন্য।
৭৫ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জানান, “আমাদের সময়ে কার্ড বানানোই ছিল আনন্দের অংশ। হাতে লেখা প্রতিটি শব্দে অনুভূতির প্রকাশ থাকত, যা এখনকার ডিজিটাল বার্তায় খুব কমই দেখা যায়।”
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে একই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হচ্ছে বহু মানুষের কাছে। এতে সময় ও খরচ সাশ্রয় হলেও ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বলেন, “আমরা ব্যস্ততার কারণে আলাদা করে কারো জন্য শুভেচ্ছা লেখার সময় পাই না। কিন্তু দাদু-দিদার হাতে লেখা চিঠি আজও আলাদা আনন্দ দেয়।”
এক সময় নববর্ষ মানেই ছিল ডায়েরির নতুন পাতা—যেখানে লেখা হতো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রতিজ্ঞা কিংবা প্রিয়জনের উদ্দেশে কিছু কথা। বর্তমানে সেই ডায়েরির স্থান দখল করেছে মোবাইল বা ল্যাপটপের ডিজিটাল নোট, যেখানে আবেগের চেয়ে কার্যকারিতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনেক প্রবীণ নাগরিক মনে করেন, প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি হাতে লেখা চিঠি ও কার্ডের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা জরুরি।
৮০ বছর বয়সী এক প্রবীণ বলেন, “আগে শুধু ‘শুভ হোক’ বলা হতো না, ব্যক্তিগতভাবে ভালো থাকার কথাও লেখা হতো। সেই ব্যক্তিগত অনুভূতিটাই এখন কমে যাচ্ছে।”
তবে সবটাই যে হারিয়ে গেছে, তা নয়। কিছু তরুণ-তরুণী আবার হাতে লেখা কার্ড বানানো কিংবা ডায়েরি উপহার দেওয়ার মতো অভ্যাসে ফিরছেন।
এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, “এই বছর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পরিবারের সদস্যদের হাতে লেখা শুভেচ্ছা পাঠাবো। এতে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করলেও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিকল্প নেই। নববর্ষের মতো উৎসব উপলক্ষে হাতে লেখা একটি চিঠি বা কার্ড আজও সম্পর্ককে আলাদা মাত্রা দিতে পারে।
নতুন বছরের প্রাক্কালে তাই অনেকেই মনে করছেন—ডিজিটাল শুভেচ্ছার পাশাপাশি যদি আবার কলম ও কাগজের ব্যবহার বাড়ে, তবে সম্পর্কের উষ্ণতাও ফিরে আসতে পারে।

Mrinmoy Roy

Journalist

Leave a Comment