সিকিমের পাহাড়ি রাস্তা থেকে নামছে কাদামাটি

By Suman Debnath

July 11, 2026 8:35 PM

সিকিমের পাহাড়ি রাস্তা থেকে নামছে কাদামাটি





দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গের সমতলে। তার জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি জায়গায় ধস নেমেছে। পাহাড় থেকে নেমে এসেছে কাদামাটি। শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং যেতে কোনও সমস্যা না-হলেও সিকিমগামী সড়কে মাঝেমধ্যেই বন্ধ থাকছে যান চলাচল। কোচবিহার শহরের অর্ধেক অংশই জলমগ্ন। বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে এখনই থামছে না ঝড়বৃষ্টি। আগামী কয়েক দিন বেশ কিছু জেলায় রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে৷ তার পরে বৃষ্টি কিছুটা বিরতি নিয়েছে। তবে ধসে জেরবার ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বেশ কিছু অংশ৷ জাতীয় সড়কের তিস্তাবাজার থেকে সিকিমগামী অংশে ২০ মাইল, মাঝেটার ও বাঘেখোলা এলাকায় ধস নেমেছে। ২০ মাইলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাহাড় থেকে নেমে এসেছে কাদামাঠি। সেই মাটিতে আটকে যায় একটি পণ্যবাহী ট্রাক।

আরও পড়ুন:  সপ্তাহে একদিন বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে হবে রাজ্যের মন্ত্রীদের জারি ফরমান, বসছে বিশেষ অধিবেশন

স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে সেই কাদামাটি পেরিয়ে চলাচল করছেন। তবে যান চলাচলের ক্ষেত্রে জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। সিকিম প্রশাসনের তরফে সেই কাদামাটি সরিয়ে রাস্তার একপাশ দিয়ে (ওয়ান ওয়ে) ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। অন্য দিকে, শুক্রবার বিকেল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের মাঝেটার এবং বাঘেখোলা এলাকায় ধস নামে। পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে বোল্ডারের বড় বড় চাঁই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই ধস সরানোর পক্রিয়া শুরু হয়েছে৷

মাঝে কয়েক দিনের বিরতির পরে বৃহস্পতিবার থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে কোচবিহারে। সারা রাত ধরে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন শহর কোচবিহার। সেখানকার ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ড জলমগ্ন। পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া, মিনি বাস স্ট্যান্ড, সুভাষ পল্লি, অমর তলা সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় প্রায় এক হাঁটু জল জমে রয়েছে। তোরসা নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আরও ভারী বৃষ্টি হলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতিতে নজর রাখছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন:  ‘পশ্চিমবঙ্গে আরও একবার এসআইআর প্রয়োজন’, দুর্গাপুজোর আবহে বার্তা দিলেন শমীক

উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) চলতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে জল বাড়বে বলে আশঙ্কা। আরও ধস নামতে পারে পাহাড়ি রাস্তায়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment