আসানসোলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় দলের প্রস্তুতি বৈঠক । ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক, বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ, ভি শিবদাসন ওরফে দাসু, প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিং, তাপস বন্দোপাধ্যায়, কালো বরুণ মণ্ডল সহ জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা।
এদিনের বৈঠকে আসন্ন ২১ জুলাই কলকাতার শহিদ দিবসের সমাবেশে পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বুথস্তরে কর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়েও নেতৃত্ব দিক নির্দেশ দেন কল্যান বন্দোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নানা ইস্যুতে বিজেপি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, নানা বাধা, পুলিশি চাপ ও ভয় ভীতি সত্ত্বেও কর্মীরা এদিনের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এদিন সকালে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা এই দলীয় কার্যালয়ে এসে বৈঠক বানচালের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমাদের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফলে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এর থেকে প্রমাণিত এখানে দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে “পুলিশি রাজ” চলছে।
তাঁর কথায়, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া, দলীয় কার্যালয়ে হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি বিজেপির পরিবর্তে “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশই দল চালাচ্ছে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।দলত্যাগী তৃণমূল নেতা-জনপ্রতিনিধিদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেননি।
আগামী দিনেও করবেন না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেন। অনুব্রত মন্ডল, ববি হাকিমের মতো দলের নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর ঋতব্রত শিবিরে যাওয়ায় কল্যান বন্দোপাধ্যায় কটাক্ষ করেছেন। একইসাথে তিনি দল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে প্রকাশ চিক বরাইকের বিজেপিতে যোগদান করা নিয়ে এদিন কল্যান বন্দোপাধ্যায় আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যকে। তিনি বলেন, প্রকাশকে ঐ দলের এক মন্ত্রী বালি চোর বলেছিলো।
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে এবং আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে।
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ সফল করতে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামবে।এদিনের বৈঠকে দেখা যায়নি বিদায়ী জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বিদায়ী মেয়র বিধান উপাধ্যায়, দুই ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক ও ওয়াসিমুল হককে। ওয়াসিমুল হক বাদে সবাই ইতিমধ্যেই কলকাতায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে সঙ্গে দেখা করেছেন।
Leave a Comment