দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এজলাসে বেনজির বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) নিজের মামলার শুনানি চলাকালীন আচমকাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এক মামলাকারী। এজলাসের মধ্যেই মামলার নথিপত্র ছুঁড়ে ফেলার পাশাপাশি প্রধান বিচারপতিকে (Chief Justice of India, CJI) নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনার জেরে সাময়িক ভাবে থমকে যায় আদালতের কাজকর্ম, শেষমেশ নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাঁকে জোর করে এজলাস থেকে বার করে দেন।
ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার
বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে নিজেই নিজের মামলা লড়ছিলেন প্রবল প্রতাপ নামে ওই ব্যক্তি। শুনানি শুরু হতেই এজলাসে দাঁড়িয়ে বেঞ্চের উদ্দেশে অস্বাভাবিক উদ্ধত ভঙ্গিতে কথা বলতে শুরু করেন তিনি, লখনউয়ের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হোক, এমনই দাবি জানান বিচারপতিদের কাছে। বিচারপতি বিশ্বনাথন পাল্টা প্রশ্ন করতেই কোনও আচমকা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মামলাকারী। মামলার কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলেন। বিচারপতিদের দিকে কাগজ ছুঁড়ে মারেন। শুরু করেন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ। যার লক্ষ্য ছিলেন স্বয়ং প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। যদিও গোটা ঘটনার সময় বেঞ্চ সংযত ও শান্ত থেকেই বাকি মামলাগুলির শুনানি চালিয়ে যায়।
“Mr Judicial servant, I order you to register FIR against ACP Vikas Nagar, Lucknow”
Man later goes on to throw papers in the court.
Dramatic scene inside India’s Supreme court. pic.twitter.com/8mPB2GPikV
— Piyush Rai (@Benarasiyaa) July 10, 2026
নতুন নয় এই ছবি
শীর্ষ আদালতের এজলাসে এমন উদ্বেগজনক দৃশ্য এই প্রথম নয়। গত বছর ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর একজন আইনজীবী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের দিকে জুতো ছুঁড়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন এজলাসের মধ্যেই। সেই সময়েও নিরাপত্তারক্ষীরা হস্তক্ষেপ করে ওই আইনজীবীকে বার করে দিয়েছিলেন। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (Bar Council of India) তাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (Supreme Court Bar Association) থেকেও তাঁর সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়। যদিও তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গাভাই নিজেই সেই সময় অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। শুক্রবারের ঘটনার পরে ফের একবার সামনে এল সেই একই প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টের এজলাসেও বিচারপতিরা কি আদৌ সুরক্ষিত?
বাংলাও ব্যতিক্রম নয়
শুধু দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট নয়, দেশের প্রতিটি হাইকোর্টেই সাম্প্রতিক সময়ে স্বনির্ভর মামলাকারী বা পার্টি-ইন-পার্সন (party-in-person) হিসেবে লড়া মামলার সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে হাইপ্রোফাইল ও রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর মামলার চাপও। কলকাতা হাইকোর্টও (Calcutta High Court) তার ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক কালে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জনপরিসরে আলোচিত বা বিতর্কিত মামলার শুনানির সময় আদালত চত্বরে উত্তেজনা এবং ভিড়ের চাপ সামলাতে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে বলে আইনজীবী মহলের একাংশের অভিমত। সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনার পরে দেশের আইনি মহলে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে, এজলাসের ভিতরে বিচারপতিদের সুরক্ষা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অভিন্ন এবং কঠোর নীতি তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
শাস্তি কী হতে পারে
আদালত অবমাননা আইনের (Contempt of Courts Act) আওতায় এজলাসের মধ্যে বিচারপতিদের উদ্দেশে অসম্মানজনক আচরণ বা গালিগালাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্থান থাকলেও, বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারপতিরাই সংযত থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। যেমনটা আগের ঘটনাতেও দেখা গিয়েছিল।
Leave a Comment