---Advertisement---

একুশে জুলাই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কালীঘাট তৃণমূল, সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

By Suman Debnath

July 10, 2026 5:20 PM

একুশে জুলাই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কালীঘাট তৃণমূল, সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

---Advertisement---





একুশে জুলাই কালীঘাট তৃণমূলের সমাবেশ হবে তো? এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তাদের কর্মী-সমর্থকদের কাছে। ধর্মতলায় সেই সভা করার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। সুতরাং হাতে সময় বলতে আর মাত্র ১০ দিন। তারপরই ২১ জুলাই তারিখ। সেদিন সমাবেশ করা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দল এখন ভেঙে গিয়েছে। সাংসদদের বড় অংশ যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই দলে। বিধায়কদের বড় অংশও নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে বিধানসভা আলো করে বসেছে। তাঁরাও একুশে জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি চেয়েছিল পুলিশের কাছে। যদিও পুলিশ তা খারিজ করে দেয়। এবার একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কড়া নাড়ল কালীঘাট তৃণমূল।

এদিকে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের আয়োজন করা যাবে না জানিয়ে দেওয়ার পর থেকেই পরিকল্পনা করতে শুরু করে কালীঘাট তৃণমূল। এবার বিরোধী হিসাবে একুশে জুলাই সমাবেশ করতে হবে কালীঘাট তৃণমূলকে। এখন রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার উপর আদালত অবমাননার নোটিসও রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। কারণ ধর্মতলায় একুশে জুলাই সমাবেশ না করার নির্দেশ ২০১৮ সালে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তা মানা হয়নি বলেই অভিযোগ। এই আবহে ২১ জুলাই ধর্মতলায় সমাবেশ করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো ‘কালীঘাট তৃণমূল’।

আরও পড়ুন:  আচমকা বারাসত মেডিক্যালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হানা, বেহাল পরিষেবা দেখে ওয়ার্ড মাস্টার-সহ একাধিককে শোকজ

অন্যদিকে প্রত্যেক বছর ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ হয় ধর্মতলায়। আগেও যখন বিরোধী আসনে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস তখন থেকেই এই সমাবেশ হয়ে থাকে। ক্ষমতায় আসার পর তার বহর বেড়েছিল। এখন আবার তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী আসনে। সেখান থেকে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করা বেশ চাপের। সেটা টের পাচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল। কারণ পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। আবার দলও ভেঙে খান খান হয়েছে। এই আবহে ২১ জুলাই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা ইভেন্টে পরিণত হবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের গুলিচালনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণে রেখে এই কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার কি ব্যতিক্রম ঘটবে? উঠছে প্রশ্ন। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে দ্বারস্থ হলো কালীঘাট তৃণমূল। এই বিষয়ে শুক্রবার রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে বিএনএস-এর ১৬৩ ধারার অধীনে জারি হওয়া একটি নিদের্শে বলা হয়েছে, ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া হাউস এবং এসপ্ল্যানেড সংলগ্ন এলাকায় ৬০ দিনের জন্য রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কোনও সভা সমাবেশ অথবা কোন বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ১৯৯৮ সাল থেকে ২১ জুলাই পালন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস।’

আরও পড়ুন:  নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, নতুন অঙ্ক নিয়ে গুঞ্জন

তাছাড়া ২০২৬ সালের ভরাডুবির পর দুই শিবিরে বিভক্ত ঘাসফুল শিবিরে রাজনৈতিক জটিলতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দলের প্রতীক, তহবিল নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। তবে এই সমাবেশ নিয়ে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত ২৭ জুন ঐতিহ্যবাহী স্থানেই সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কোনও উত্তর না পাওয়ায় আবার ৩০ জুন এবং ১ জুলাই চিঠি দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এমনকী বিকল্প হিসেবে ডোরিনা ক্রসিংয়ে সমাবেশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও সদুত্তর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তাই আদালতে আসতে হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি সম্ভাবনা রয়েছে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment