উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় এক অষ্টম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর সৎ বাবা ও দাদুকে। দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে স্কুলের শিক্ষিকাদের তৎপরতায়। শিক্ষিকাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাবরা থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের বারাসত আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে অন্য সদস্যরা না থাকলে অভিযুক্ত সৎ বাবা ও দাদু নাবালিকার উপর বারবার যৌন নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার জেরে কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। ভয় ও আতঙ্কের কারণে পরিবারের অন্য কাউকে সে বিষয়টি জানাতে পারেনি বলেই প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
তবে স্কুলে তার আচরণের পরিবর্তন শিক্ষিকাদের নজর এড়ায়নি। আগে স্বাভাবিক থাকলেও, কিছুদিন ধরে সে চুপচাপ থাকত এবং পড়াশোনাতেও মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শিক্ষিকারা আলাদা করে তার সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময়ই কান্নায় ভেঙে পড়ে নাবালিকা এবং নিজের উপর হওয়া নির্যাতনের অভিযোগ জানায়।
এরপর বুধবার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষিকা হাবরা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এদিন বিকেলেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি আদালতের সামনে তার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
স্কুলের শিক্ষিকারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
Leave a Comment