---Advertisement---

‘মাকে শেষ করে দিতে হবে’! ১০ কোটির সম্পত্তি আর সরকারি চাকরির লোভে ‘সুপারি কিলিং’, জয়পুরে গ্রেফতার কন্যা

By Suman Debnath

July 9, 2026 4:54 PM

---Advertisement---


জয়পুরে মাকে খুনের অভিযোগে কন্যা গ্রেফতার— এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজস্থানে। পুলিশের দাবি, বাবার সরকারি চাকরি এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি নিজের দখলে আনতেই মা নীরজ শর্মাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত কন্যা আয়ুষি শর্মা। ঘটনাটিকে প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা হলেও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে গোটা ষড়যন্ত্রের ছবি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুরের এয়ারপোর্ট কলোনির বাসিন্দা আয়ুষি শর্মার বাবা বিজয় শর্মা সরকারি কর্মী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর নিয়ম মেনে পরিবারের সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরি পান তাঁর স্ত্রী নীরজ শর্মা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই চাকরি নিজে পাওয়ার আশা করেছিলেন আয়ুষি। কিন্তু তা না হওয়ায় ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

তদন্তে উঠে এসেছে, পরিবারের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তিও নিজের নামে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু মা জীবিত থাকলে তা সম্ভব হবে না বলে মনে করেছিলেন তিনি। সেই কারণেই ধাপে ধাপে খুনের ছক তৈরি হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন:  শিশুবিবাহে ধর্ম নয়, আইনের শাসনই চূড়ান্ত— মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাই কোর্টের

পুলিশের দাবি, নিজের কাকা ও খুড়তুতো ভাই বলরামের সঙ্গেও এই পরিকল্পনা ভাগ করে নিয়েছিলেন আয়ুষি। তাঁদের সম্পত্তির অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নীরজকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ। এরপর নীরজ শর্মার দৈনন্দিন চলাফেরা প্রায় এক মাস ধরে নজরে রাখা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে কাজে যেতেন নীরজ। বিকেলে অফিস থেকে তিনি হেঁটেই বাড়ি ফিরতেন। সেই রুটিনকেই কাজে লাগিয়ে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, হরিয়ানা থেকে এক ভাড়াটে খুনিকে এনে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সুপারি দেওয়া হয়েছিল।

৪ জুলাই অফিস থেকে ফেরার সময় রাস্তার ধারে হাঁটছিলেন নীরজ শর্মা। অভিযোগ, সেই সময় পিছন থেকে একটি গাড়ি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ধাক্কা মারে। প্রবল আঘাতে তিনি প্রায় ১০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন:  ‘কুকুরও কথা শোনে না’, ফড়ণবীসের মন্তব্যে মহারাষ্ট্রে তুমুল রাজনৈতিক ঝড়

ঘটনার পর আয়ুষি আত্মীয়দের ফোন করে কান্নাজড়িত গলায় মায়ের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর দেন। তবে তাঁর মামার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা দেখতে পান, নীরজ রাস্তার একেবারে ধার দিয়েই হাঁটছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি সরাসরি তাঁর দিকে এগিয়ে এসে ধাক্কা মেরে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফুটেজে ঘটনাস্থলের আশপাশে আয়ুষির উপস্থিতিও ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জেরার পর অভিযুক্ত নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment