---Advertisement---

আগরতলা প্রধান ডাকঘরে ৭৫০ বোতল এসকফ উদ্ধার, চাঞ্চল্য শহরজুড়ে!

By Suman Debnath

June 19, 2026 6:43 AM

আগরতলা প্রধান ডাকঘরে ৭৫০ বোতল এসকফ উদ্ধার, চাঞ্চল্য শহরজুড়ে!

---Advertisement---

আগরতলার প্রধান ডাকঘর থেকে ফের বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ ESKUF উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারির অংশ হিসেবে প্রধান ডাকঘরে সন্দেহজনক একটি পার্সেল পরীক্ষা করার সময় প্রায় ৭৫০ বোতল ESKUF উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক মহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ডাকঘরের কর্মীরা একটি সন্দেহজনক পার্সেল শনাক্ত করার পর সেটি পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনা হলে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পার্সেলটি খতিয়ে দেখে। তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ ESKUF কফ সিরাপ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, পার্সেল পরিষেবার মাধ্যমে এই নেশাজাতীয় সামগ্রী রাজ্যের বাইরে অথবা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। তবে পার্সেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, কার নামে বুকিং করা হয়েছে এবং এর প্রকৃত প্রাপক কে— সেই বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:  ডুম্বুরে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ, মাতাবাড়ি সার্কিট প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন!

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও আগরতলার প্রধান ডাকঘর থেকে একাধিকবার নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ফলে ডাক পরিষেবাকে ব্যবহার করে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বারবার একই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।

পুলিশের মতে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা, কুরিয়ার পরিষেবা এবং পার্সেল সার্ভিসকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সেই কারণে বর্তমানে পার্সেলটির উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে ডাক বিভাগের বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হবে। পার্সেলটি ডাকঘরে কীভাবে পৌঁছাল, কারা এটি জমা দিয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর মাদক পাচার নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন:  আজ ৪০ সাব্রুম মন্ডল মণ্ডলের অন্তর্গত সামসিং হাই স্কুল মাঠে রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রী Dr.Manik Saha উপস্থিতিতে সু-বিশাল জনসভা ও যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, মাদকবিরোধী সংগঠন ও সচেতন মহলের দাবি, ডাকঘরসহ বিভিন্ন পরিবহন ও পার্সেল পরিষেবায় নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, মাদক পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবেই সরকারি বা বেসরকারি পরিষেবার অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফের একবার আগরতলার প্রধান ডাকঘর থেকে বিপুল পরিমাণ ESKUF উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজধানীতে মাদক পাচার রোধে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment