নিজস্ব প্রতিনিধি, ত্রিপুরা: পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার ভোর থেকেই আগরতলা-আসাম জাতীয় সড়কের বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন রাজ্যের প্রাক্তন আত্মসমর্পণকারী দুই জঙ্গি সংগঠন এনএলএফটি (NLFT) ও এটিটিএফ (ATTF)-এর সদস্যরা। সকাল ছয়টা নাগাদ শুরু হওয়া এই অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোর থেকেই আন্দোলনকারীরা জাতীয় সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে আগরতলা থেকে আসামগামী এবং আসাম থেকে আগরতলামুখী শতাধিক যানবাহন রাস্তার দুই পাশে আটকে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী গাড়ি এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। যদিও অবরোধ শুরুর সময় বিস্তারিত দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনর্বাসন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং অন্যান্য বকেয়া বিষয়গুলির দ্রুত সমাধানের দাবিতেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অবরোধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও টিএসআর (Tripura State Rifles) জওয়ান মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, জাতীয় সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বহু যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার উপর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি গণপরিবহন পরিষেবাও ব্যাহত হয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলির চালকরা সমস্যার সম্মুখীন হন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। জাতীয় সড়কে যান চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে আগরতলা-আসাম জাতীয় সড়কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়ক অবরোধের প্রভাব শুধু স্থানীয় এলাকায় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও পড়েছে।
অপরদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি চলছিল এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও জাতীয় সড়কে যান চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Comment