আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

বিদ্যুৎবাহী তার জলে ফেলে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠে এল শান্তির বাজার অন্তর্গত পূর্বপাড়া মহাশ্মশানের পাশেই লাউগাং নদী দারে।

By Bahadur Tripura

Published on: April 21, 2026

Follow Us

---Advertisement---

শান্তির বাজার বীর বাহাদুর ত্রিপুরা,২১ই এপ্রিল মঙ্গলবার: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা অন্তর্গত শান্তিবাজারের পূর্বপাড়া মহাশ্মশানের পাশেই লাউ গাং নদী দারে একটি অভিযোগ উঠেছে চক্র পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎবাহী তার জলে ফেলে মাছ শিকার করছে। এটি কেবল বেআইনি নয়, এটি একটি মরণফাঁদ। প্রথমেই আসা যাক আইনি বিষয়ে—ভারতীয় মৎস্য আইন (Fisheries Act) অনুযায়ী, বিদ্যুতের ব্যবহার করে মাছ ধরা বা জলজ প্রাণী শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি মাছের বংশ ধ্বংস করার পাশাপাশি জলজ বাস্তুতন্ত্রকে (Aquatic Ecosystem) স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেয়। কিন্তু আজ আমাদের প্রশ্ন আইনের চেয়েও বড়—মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে।

প্রশাসনের নাকের ডগায়, প্রকাশ্যে একটি নদীকে কার্যত ইলেকট্রিক চেম্বারে পরিণত করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ বলছেন, এই কারেন্ট মারার ঘটনা নতুন নয়। তাহলে স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসন কী করছে? তাদের নিষ্ক্রিয়তা কি পরোক্ষভাবে এই অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না? অবৈধ সংযোগ না থাকলে নদী গর্ভে কারেন্ট আসে কোত্থেকে? বিদ্যুৎ দপ্তর কি বিষয়টি জানে না? নাকি তাদের যোগসাজশেই চলছে এই ভয়াবহ কর্মকাণ্ড? অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের দায় কি বিদ্যুৎ দপ্তর এড়াতে পারে? এই নদী শুধু মাছের জন্য নয়, মানুষের ব্যবহারের জন্যও। আজ যদি অসাবধানবশত কোনো সাধারণ মানুষ, কোনো শিশু বা কোনো গবাদি পশু সেই জলে নেমে পড়ত, আর কারেন্টের ধাক্কায় কারো প্রাণহানি হতো, তবে সেই দায়ভার কে নিত?

যারা মাছ ধরছে তারা? নাকি যারা কারেন্ট সাপ্লাই দিচ্ছে তারা? না কি প্রশাসন, যারা দিনের পর দিন চোখ বন্ধ করে বসে আছে? আমরা শান্তিবাজার মহকুমা প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে সরাসরি জানতে চাইছি—এই ‘ইলেকট্রিক ফিশিং’ কি বৈধ? আর যদি না হয়, তবে এই অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে এখনও কেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

মনে রাখবেন, আজ যারা মাছ মারছে তারা কেবল জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে না, তারা একটি এলাকার মানুষকে মৃত্যুকূপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসন এখনই জেগে না উঠলে, কোনো এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আপনাদের দায়বদ্ধতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

Bahadur Tripura

Journalist

Leave a Comment