আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত তেলিয়ামুড়ার গৃহস্থরা!

By Mrinmoy Roy

Published on: January 31, 2026

Follow Us

---Advertisement---

তেলিয়ামুড়া, মৃন্ময় রায়, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার :
সাম্প্রতিক সময়ে তেলিয়ামুড়া থানার অধীনে একের পর এক চুরির ঘটনা গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গবাদি পশু চুরির ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষ, কৃষক ও দিনমজুর শ্রেণির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।
গতকাল তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কের পাশে পোলিনপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দন দেবনাথের বাড়ি থেকে গরু চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। চন্দন দেবনাথের দাবি, রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত তিনি নিজের গরুগুলো দেখেছিলেন, কিন্তু এরপর অজানা কোনো সময়ে সেগুলো চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি পুলিশের কাছ থেকে সহানুভূতির বদলে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন বলে অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ উল্টো জানতে চায় কেন বাড়িতে সিসিটিভি নেই এবং পাশাপাশি তাঁকে নানা অপমানজনক কথাও শোনানো হয়।
ঘটনার তদন্তে হাওয়াইবাড়ি নাকা পয়েন্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরা নাকি অচল। অথচ এই নাকা পয়েন্টকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছে। প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, এই পথ ব্যবহার করেই চুরি যাওয়া গরু সহ বিভিন্ন অবৈধ কাজ নির্বিঘ্নে চালানো হয়। এমনকি গরুবোঝাই গাড়ি থেকে ২০০ থেকে শুরু করে ৫০০ কিংবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ‘প্রণামী’ আদায় করা হয় বলেও একাধিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
চন্দন দেবনাথের ঘটনাটি একক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে তেলিয়ামুড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গরু চুরির খবর সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনগুলো ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যেখানে বিভিন্ন সংগঠনগুলির তরফে গোমাতা রক্ষা নিয়ে বড় বড় প্রচার চালানো হয়, সেখানে বাস্তবে গরু চুরির মতো গুরুতর অপরাধ কীভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ বাড়ছে।
সূত্রের দাবি, তেলিয়ামুড়া ও কৃষ্ণপুর এলাকার একাংশ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেরাই গরু পাচার ও অবৈধ গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতেই এই ধরনের চুরির ঘটনা বাড়ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এই পরিস্থিতিতে চন্দন দেবনাথের মতো নিরীহ গোপালক ও কৃষকদের নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্নের মুখে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে সাধারণ মানুষের ভরসা প্রশাসন ও আইনের উপর থেকে পুরোপুরি উঠে যাবে।

Mrinmoy Roy

Journalist

Leave a Comment