নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘কোনও ডিসেম্বরেই “আপা” দেশে আসার সুযোগ নেই। এলেও তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে।’
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত নবীনবরণ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্দিষ্ট কারও দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে নাকি কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন, আপনারা কি জানেন? আমরা কি প্রস্তুত আছি? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে রাজপথে প্রস্তুত ছিলাম, এবার কি আছি? এবার প্রতিরোধ আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?’
বিগত সময়ের ব্যর্থ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি, ক্ষমা প্রদর্শনের নজির রেখেছি। শহীদ ওসমান হাদির ভাষায় আমরা বলেছিলাম— শত্রুর প্রতিও আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো দৃশ্যমান বিচার পাইনি। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, জুলাইয়ের শহীদ ভাইবোনদের রক্তেরও বিচার পাইনি। জনগণ যখন বারবার আশাহত হয় ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তারা নিজেরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হয়।’
৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৭ নভেম্বরকেও বিপ্লব মনে করি, আবার জুলাই বিপ্লবকেও বিপ্লব মনে করি, ঠিক কি না বলেন?’
তিনি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতি ও বয়ানের সমালোচনা করে যোগ করেন, বর্তমান সরকার নিজেদের অনুকূলে থাকা ঘটনাকে ‘বিপ্লব’ আখ্যায়িত করে; আর যেখানে তাদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব বা অনুকূল পরিবেশ ছিল না, সেগুলোকে বিপ্লব না বলে কেবল আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে খাটো করে দেখতে চায়।
শুধুমাত্র আঞ্চলিক দাবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজেদের প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। নোবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘আপনারা শুধু নোয়াখালী বিভাগ চাই বলে খণ্ডিত আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ নিয়ে ভাববেন, পুরো বিশ্ব নিয়ে ভাববেন— এর আসল অর্থই হলো বিশ্ববিদ্যালয়।’
বিশ্বে প্রতিনিয়ত কোথায় কী পরিবর্তন ঘটছে, কী নতুন চিন্তা বা প্রযুক্তি আসছে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে সেসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। চাকরির বাজার শুধুমাত্র দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ববাজারে নিজেকে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ও দেশের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলো আজও ঘুমিয়ে নেই। সেই অদম্য শক্তির প্রমাণ প্রতিনিয়ত রাজপথে ও মেধার লড়াইয়ে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ছাত্র সমাজের করণীয় ও জুলাই বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করার ওপর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
Leave a Comment