হরিয়ানায় উঠে এল বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র। শুক্রবার দেশের সবচেয়ে দূষিত এলাকা হিসেবে উঠে এল গুরুগ্রাম জেলার পঞ্চগাঁও। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর ৬ নভেম্বরের দৈনিক বায়ুমান সংক্রান্ত বুলেটিন অনুযায়ী, পঞ্চগাঁওয়ের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) পৌঁছেছে ৪২৬-এ। দূষণের এই মাত্রা ভয়াবহ শ্রেণির আওতার মধ্যে পড়ে।
দেশের ২৭৮টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের গজরৌলা। সেখানে একিউআই ৪০৭। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানার বল্লভগড়। এর একিউআই ৩৯৭। অন্যদিকে, দিল্লির একিউআই ৩৮২, গুরুগ্রামে ৩৬৮ এবং ভিওয়ানিতে ৩৫৩। দেশের সবচেয়ে দূষিত ১০টি এলাকার তালিকায় হরিয়ানার চারটি জায়গা থাকায় রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ন্ত্রণে ৬ নভেম্বর থেকে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর তৃতীয় পর্যায় কার্যকর করেছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধের পাশাপাশি এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধুলো সৃষ্টিকারী এমন নির্মাণ ও ভাঙার কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সুরক্ষা বিধি মেনে জরুরি পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি খনি ও পাথর ভাঙার কাজও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি ছাড়াও গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, সোনিপাত, গাজিয়াবাদ ও গৌতম বুদ্ধ নগরে বিএস-৩ (BS-III) পেট্রোল ও বিএস-৪ (BS-IV) ডিজেল চালিত চার চাকার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য ছাড় থাকবে।
এছাড়া দিল্লি-এনসিআরের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য স্কুলে অনলাইন ও অফলাইন, দুই ধরনের ক্লাসের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও সোনিপত-সহ নির্দিষ্ট এনসিআর জেলাগুলিতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি কমানো ও বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সিপিসিবি (CPCB)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একিউআই ৩০১-৪০০ হলে তা ‘অত্যন্ত খারাপ’ ওবং ৪০১-৫০০ হলে তা ‘ভয়াবহ’ হিসেবে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এই দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকী, সুস্থ মানুষের শরীরেও এর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
Leave a Comment