জমি থেকে লগ্নি, শিল্পনীতিতে বড় বদল রাজ্যে, ১০৫ দিনে শিল্পপ্রস্তাবের ছাড়পত্র

By Suman Debnath

November 5, 2026 5:25 PM

জমি থেকে লগ্নি, শিল্পনীতিতে বড় বদল রাজ্যে, ১০৫ দিনে শিল্পপ্রস্তাবের ছাড়পত্র


রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বৃহস্পতিবার ইকো পার্ক থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নতুন নীতিতে জমির জট কাটানো, বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পপ্রস্তাবের অনুমোদন প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য।

নতুন শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বিনিয়োগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ছাড় ও সুযোগ-সুবিধা। বৃহৎ শিল্প থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং অলাভজনক সংস্থা—সবই এই নীতির আওতায় আসবে। বিদ্যুৎ শুল্ক ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ এবং বিনিয়োগের পরিমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলার ছৌ নৃত্যের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপনা

১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন শিল্পনীতিতে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিল্পপ্রস্তাবের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন জমা পড়ার পর ১০৫ দিনের মধ্যে গোটা অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বলে আশা রাজ্য সরকারের।

জমি নিয়ে জটিলতা কাটানোও নতুন নীতির অন্যতম লক্ষ্য। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে বলপ্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণের বদলে বাজারমূল্যে জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কেনার পক্ষে রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বে মন্ত্রীগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। জমিনীতি নিয়ে প্রাথমিক খসড়াও প্রস্তুত। শিল্পের জন্য জমি নিয়ে কোনও সংস্থা দীর্ঘদিন তা ফেলে রাখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বিরোধী দলনেতা, বড় দাবি করতেই যাবেন নবান্নে

এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে বাম সরকার জোর করে জমি নিয়েছিল কৃষকদের থেকে। সেখানে কোনও কাজ হয়নি। শিল্পও হয়নি, পরে কৃষিকাজও হয়নি। এই সরকার সেই ভুল করেনি।”

নতুন নীতিতে রুগ্ন শিল্পের পুনরুজ্জীবনের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্পমহলের একাংশের আশা, জমি কেনার প্রক্রিয়া সহজ করা, অনুমোদনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং বিনিয়োগে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ফলে রাজ্যে নতুন করে শিল্প স্থাপনের পরিবেশ তৈরি হবে। তবে ঘোষিত নীতির বাস্তবায়ন এবং তার মাধ্যমে কতটা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি হয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment