কসবায় একটি পুরনো গাড়ি থেকে উদ্ধার হল পচাগলা মৃতদেহ। রাস্তার ধারে একটি অস্থায়ী গ্যারাজে ওই গাড়ি রাখা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে গাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সরাসরি পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে গাড়ি তল্লাশি করতেই একটি পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। চালকের আসন থেকে দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা। কিন্তু এই ঘটনা থেকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। অডি বিলাসবহুল গাড়ি। সেখানে পচাগলা মৃতদেহ থাকল কেমন করে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, কসবায় বিলাসবহুল অডি গাড়ি রাস্তার ধারের একটি অস্থায়ী গ্যারেজে রাখা ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় সেখানে ছিল অডি গাড়ি। অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। দুর্গন্ধ একদিন করে বাড়ছিল। সেটা বৃহস্পতিবার দুপুরে তীব্র আকার ধারণ করে। তখন তাঁরা পুলিশে খবর দিতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গাড়ি থেকেই দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তাঁদের কথা শুনে পুলিশ এসে গাড়ি থেকে একটি পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। কীভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল? গাড়িতে যিনি ছিলেন তিনি কি বিত্তশালী? খুন করে ওই গাড়িতে দেহ রেখে যাওয়া হয়েছিল? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। রাজডাঙা নারকেলবাগান এলাকার গ্যারেজে লাল রঙের অডি গাড়ি এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকালে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়ির ৪টি গেটের মধ্যে ৩টি গেটের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। একটি গেটের দরজা লক করা ছিল। তবে চারটি গেটের কাচই বন্ধ ছিল। সন্দেহ এখান থেকেই শুরু হয়। কারণ কাচ বন্ধ করে কেউ আত্মহত্যা করবে না। সেটা করলে গাড়ির দরজাও বন্ধ থাকত। গাড়ির দরজা খোলা ছিল। তাতে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খুন করে দেহ রেখে যাওয়া হতে পারে। মৃত ব্যক্তি একজন ভবঘুরে বলেও জানতে পারা যাচ্ছে। এলাকায় আগে দেখা যেত তাঁকে। গত কদিন ধরে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। তিনিই গাড়ির দরজা খোলা পেয়ে সেখানে ঢুকে থাকবেন এমনটা মনে করতে রাজি নন তদন্তকারীরা। তাঁর গায়ে কোনও আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তাছাড়া গ্যারেজে রাখা গাড়িতে ধুলোর মোটা স্তর ছিল। সেটা পুলিশকে ভাবাচ্ছে। গাড়িটি কার? খোঁজ করে দেখছে কসবা থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। এটি খুনের ঘটনা কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এসে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গাড়ির মালিকের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কবে থেকে গাড়ি গ্যারেজে পড়েছিল সেটা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
Leave a Comment