গভীর মানসিক সমস্যা- নার্সিসিজ়ম – Rplus

By Suman Debnath

October 30, 2026 1:50 PM


নার্সিসিস্টদের মানসিকতা কীভাবে কাজ করে?  তাঁদের আচরণ চিনবেন কীভাবে?  নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন?

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক: ২০২৬, প্রযুক্তিতে বাঁধা এই পৃথিবীতে আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হই। কিন্তু এই সংযোগের ভিড়েই নীরবে বাড়ছে এক গভীর মানসিক সমস্যা- নার্সিসিজ়ম বা আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তিত্বের প্রবণতা।

আজকাল কাউকে অহংকারী বা আত্মপ্রচারক বললেই আমরা বলি, “ও তো নার্সিসিস্ট।” কিন্তু বাস্তবে নার্সিসিজ়ম শুধুমাত্র আত্মভালোবাসা নয়। এটি একটি মানসিক বৈশিষ্ট্য, যেখানে মানুষ নিজেকে অতিমাত্রায় শ্রেষ্ঠ ভাবেন, প্রশংসার প্রতি অসুস্থ আসক্তি থাকে এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়- অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীনতা তৈরি হয়। কিন্তু এই নার্সিসিস্টদের মানসিকতা কীভাবে কাজ করে, তাঁদের আচরণ চিনবেন কীভাবে, নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন এবং কখন দূরে সরে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত?

 নার্সিসিস্ট মানসিকতা বোঝা জরুরি কেন?

প্রথমেই বুঝে নেওয়া জরুরি- নার্সিসিস্টের আচরণ আপনার মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়। এটি তাঁদের নিজের ভঙ্গুর অহংকার রক্ষা করার এক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নার্সিসিস্টরা নিজেদের ভিতরের নিরাপত্তাহীনতা ঢাকতে বাইরের দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তাঁরা সম্পর্ককে ভালোবাসার জায়গা হিসেবে নয়, ক্ষমতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখেন।

আরও পড়ুন:  বর্ষায় ত্বক ভালো রাখতে ৫ করণীয়

নার্সিসিস্টদের সাধারণ কৌশল

নার্সিসিস্টরা সাধারণত কয়েকটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করেন:

গ্যাসলাইটিং:

আপনাকে বারবার এমনভাবে বিভ্রান্ত করা যাতে

আপনি নিজের স্মৃতি, সিদ্ধান্ত বা বাস্তবতাকেই সন্দেহ করতে শুরু করেন

লাভ বম্বিং:

শুরুর দিকে অতিরিক্ত ভালোবাসা, প্রশংসা, যত্ন দেখিয়ে

আপনাকে আবেগে জড়িয়ে ফেলা

পরে হঠাৎ অবমূল্যায়ন শুরু হয়

ট্রায়াঙ্গুলেশন:

ইচ্ছাকৃতভাবে তৃতীয় কোনও মানুষকে সম্পর্কের মধ্যে টেনে এনে

আপনাকে হিংসা, নিরাপত্তাহীনতা বা অপরাধবোধে ভোগানো

অবজেক্ট কনস্ট্যান্সির অভাব:  

নার্সিসিস্টরা মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, ‘ব্যবহারযোগ্য বস্তু’ হিসেবে দেখেন

আপনার থেকে সুবিধা শেষ হলেই সম্পর্কের মূল্যও শেষ

নার্সিসিস্টের সঙ্গে কীভাবে নিজেকে সামলাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ দিয়ে নয়- কৌশল দিয়ে নার্সিসিস্টকে সামলাতে হয়।

গ্রে রক পদ্ধতি:  

নিজেকে আবেগহীন, নিরপেক্ষ এবং বিরক্তিকর করে তুলুন

ছোট উত্তর দিন — “ঠিক আছে”, “বুঝলাম”, “দেখা যাক”

এতে তারা আগ্রহ হারায়

স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করুন:

অনুরোধ নয়, স্পষ্ট নিয়ম করুন

যেমন- “আপনি চিৎকার করলে আমি ফোন কেটে দেব”

এবং সত্যিই তা করুন

J.A.D.E এড়িয়ে চলুন:

আরও পড়ুন:  রাত নিয়ে ৫০+ ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও উক্তি: একাকিত্ব, রোমান্স, কষ্ট আর নিস্তব্ধতার সেরা সংগ্রহ

Justify, Argue, Defend, Explain- এই চারটি কাজ করবেন না

আপনার ‘না’ মানেই ‘না’

ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার নেই

ডকুমেন্টেশন রাখুন:  

কথোপকথনের নোট রাখুন

এটি আপনাকে গ্যাসলাইটিং থেকে মানসিকভাবে সুরক্ষা দেবে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কখন দূরে সরে যাবেন?

যদি কোনও সম্পর্ক আপনাকে ক্রমাগত:

মানসিকভাবে ক্লান্ত করে

নিজের মূল্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে

ভয় বা উদ্বেগে রাখে

আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত করে

তাহলে সেই সম্পর্কের মূল্য আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালে মানসিক স্বাস্থ্য শুধু বিলাসিতা নয়- এটি জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ। কখনও কখনও দূরে সরে যাওয়া দুর্বলতা নয়- বরং আত্মরক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত। আত্মমুগ্ধতার আয়নায় তাকালে আমরা শুধু অন্যদের মুখ নয়, নিজেদের সচেতনতাও দেখতে পাই। নার্সিসিজম আজ আর কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়- এটি সামাজিক চ্যালেঞ্জ। সচেতনতা, সীমারেখা, আত্মসম্মান এবং প্রয়োজন হলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সাহস- এই চারটি অস্ত্রই আমাদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। ভালোবাসা মানে অন্যের দ্বারা নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া নয়। সুস্থ সম্পর্ক মানে সম্মান, সহানুভূতি এবং নিরাপত্তা।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment