শহরকে তিনি নতুন রূপ দিতে চান। তাই পার্ক থেকে শুরু করে বাজার এলাকা ঘুরে বেড়ান। অলিগলি থেকে রাজপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে নানা উপদেশ দিয়ে থাকেন। কখনও বুঝিয়ে আবার কখনও কড়া ভাষা ব্যবহার করেন। আসলে কল্লোলিনী কলকাতাকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে চান তিনি। তাঁর নানা উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক শহরে কম হয় না। কিন্তু তবু তিনি লক্ষ্যে অবিচল। তাই কখনও কলেজ স্ট্রিটকে নিয়ে পৃথক ভাবনা সবার সামনে তুলে ধরেন। আবার হকার নিয়ে নানা টোটকা দেন। এবার ট্যাংরার চায়না টাউন নিয়ে নতুন ভাবনা সামনে আনলেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
ইতিমধ্যেই রাস্তার পাশে ডিভাইডারের নীল-সাদা রং মুছে হয়েছে কালো-হলুদ-সাদা। শহরকে সাজাতে বিভিন্নরকম পরিকল্পনা নিচ্ছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তার জন্য শহর চষে ফেলছেন তিনি। একাধিক এলাকার নানা ওয়ার্ডে ঘুরে দেখছেন কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা। পরয়োজনে তদারকিও করছেন তিনি। এবার পুরমন্ত্রী জানালেন তাঁর নয়া পরিকল্পনার কথা। বদলের পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হতে চলেছে কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ট্যাংরার চায়না টাউনের লুক। আর তার জন্য তিনি কথা বলেছেন চিনের জেনারেল কনসালের সঙ্গেও। নিজেই সে কথা জানান অগ্নিমিত্রা। এই বিষয়ে পুরমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। এতে লুক আগের তুলনায় অনেক সুন্দর হবে।’
রাস্তার ধারে সব দোকানের লুক কেমন হবে? অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের পর এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘সব লুক একরকমের হোক।’ বৃহস্পতিবার পাটুলিতে ১৬টি নবনির্মিত ফুড স্টলের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। আর সেই অনুষ্ঠান শেষে অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘এটা স্ট্রিট ফুড স্ট্রিট। ইএম বাইপাসের পাশাপাশি টালাতেও এই পরিকল্পনা আছে। দমদমে বিনিয়োগকারীরা বিমানবন্দর থেকে বের হলে একটা খারাপ লুক দেখতে পান। আমি চাই সব দোকানের একইরকমের লুক হবে। ত্রিপল অথবা ভাঙা বাঁশ দিয়ে নয়, দোকানগুলিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে হবে গোটা রাজ্যে।’
তাছাড়া হকারদের রিলোকেশন এবং তাঁদের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ঘোষণা করেন পুর মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা জানালেন, ‘আমি দোকান বানিয়ে দেবো। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এফএসএসএআই-এর নিয়ম মানতে হবে। ব্যাংকক খুব সুন্দর করে হকারদের জন্য দোকান বানিয়েছে। থাইল্যান্ডের জেনারেল কনসালের সঙ্গে কথা হয়েছে। ব্যাংককের আর্কিটেক্ট নিয়ে এসে নতুন লুকে গড়ে তোলা হবে এবার শহর কলকাতার হকারদের জন্য বানানো দোকানগুলিকে। তবে পুরানো হকাররা যাঁরা আছেন তাঁদের রিলোকেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’
Leave a Comment