খড়গপুর, ২৮ অক্টোবর: ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারে দেশের অন্যতম অগ্রণী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে সহযোগিতার লক্ষ্যে লেটার অব ইনটেন্ট (LOI) স্বাক্ষর করল ত্রিপুরা সরকার। বুধবার এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলল।
আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সচিব বিকাশ সিং, আইএএস, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষরিত হয়।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন, গবেষণার পরিধি বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা সায়েন্স, উদ্ভাবন, উদ্যোগ গঠন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সহযোগিতাকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে ত্রিপুরা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি, রাজ্যের বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজ এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইআইটি খড়গপুরের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সংযোগ আরও মজবুত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা, পঞ্চায়েত ও সাধারণ প্রশাসন (রাজনৈতিক) দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, “আজ ত্রিপুরার জন্য সত্যিই একটি ঐতিহাসিক ও গর্বের দিন। আইআইটি খড়গপুরের মতো দেশের একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান আমাদের রাজ্যের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই এলওআই স্বাক্ষর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নয়; এটি ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করা, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীরা যেন আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও গবেষণার ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”
বৈঠকে সহযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ে একটি যৌথ পরিচালন কমিটি (Joint Steering Committee) গঠন, উভয় পক্ষের নোডাল আধিকারিক নিয়োগ এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (DPR) তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজ্যের প্রয়োজন ও সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও উদ্যোগের মধ্যে সংযোগ কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এছাড়া ত্রিপুরার কৃষি, বাঁশ, রাবার ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ-সহ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টিও এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে আসে।
সামগ্রিকভাবে, আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে এই সহযোগিতার উদ্যোগ রাজ্যের উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক, গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সামনে জাতীয় স্তরের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
Leave a Comment