‘প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না নতুন শিক্ষকরা’, নিয়োগের সঙ্গে শর্ত জুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

By Suman Debnath

October 28, 2026 7:10 PM

‘প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না নতুন শিক্ষকরা’, নিয়োগের সঙ্গে শর্ত জুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী


রাজ্যে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পর একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিক বৈঠক করে জানান মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠক মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার নতুন পদ তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে আগেই। এবার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক এবং কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে যে সমস্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হবে, তাঁরা আর সরাসরি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। নবান্ন সভাঘর থেকে তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার অত্যন্ত তৎপর। আগের ক্যাবিনেট বৈঠকে যেখানে ৪৫ হাজার পদ তৈরি করা হয়েছিল, আজকের বৈঠকে আরও প্রায় ১২০০ নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠক মিলে প্রায় ৬০ হাজার চাকরির পথ প্রশস্ত করেছে এই রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ক্যাবিনেটের মিটিংয়ে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটা হচ্ছে, আমাদের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ। গত ক্যাবিনেটে ৪৫ হাজার পদ তৈরি করা হয়েছিল। আজকে আর্বান ডেভেলপমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং-সহ মিলিয়ে ১১৯৯ নতুন পোস্ট তৈরি করা হয়েছে। এগুলি আমরা দ্রুত বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ করব। মোট এখনও পর্যন্ত প্রায় কয়েকটা ক্যাবিনেট মিলিয়ে ৬০ হাজারের মতো নিয়োগ করেছি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে।’

আরও পড়ুন:  দিল্লি পেরিয়ে দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের আগুন! রাজ্যগুলিকে সতর্ক করল কেন্দ্র, বাড়ছে নিরাপত্তা নজরদারি

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। বিহার বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকরাও আর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যে সমস্ত শিক্ষক নিয়োগপত্র পাবেন, তাঁরা পঞ্চায়েত বা পুরসভা তো বটেই, এমনকী বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হতে বা প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়াতে পারবেন না। আজকের পর থেকে যে শিক্ষক নিয়োগ হবে, তারা অন্যান্য রাজ্যের মতোই প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না।’

তাছাড়া এখন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কতটা প্রযোজ্য হবে, সেটা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পরিষ্কার কথা, যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরি পেয়েছেন এবং নানা ক্ষেত্রে বা রাজনৈতিক পদে যুক্ত আছেন, যেমন যাঁরা পঞ্চায়েত বা পুরসভার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন, তারা যে স্বাধীনতা পেয়েছেন, তাঁদের সেই অধিকার খর্ব করছি না। আজকের পর থেকে যা নিয়োগ হবে, তারা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না। এটা আমরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলাম। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার মান বাড়ুক। ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট এবং ১৫ বছরের দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস, যাদের মাইন্ডসেট ছিল গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার, সেই জায়গা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে, শিক্ষা প্রাঙ্গণ, শিক্ষা মন্দিরকে, শিক্ষক শব্দের যে মর্যাদা, সেটা ফিরিয়ে আনা। এটি বড় উদ্যোগ।’

আরও পড়ুন:  ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ ভাঙচুরে ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট! ‘পুলিশ কী করেছে?’ রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment