নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার শেষ দিনে নয়া নাটক, ঋতব্রতর অভিযোগে চর্চা তুঙ্গে

By Suman Debnath

October 26, 2026 11:15 AM

নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার শেষ দিনে নয়া নাটক, ঋতব্রতর অভিযোগে চর্চা তুঙ্গে


কে আসল তৃণমূল কংগ্রেস? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নাকি ঋতব্রত শিবির সেটা  নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে ঠিক তার আগেই নতুন নাটকের অবতারণা হল রাজ্য-রাজনীতিতে। কারণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নথি জমা দেওয়ার আগে সেই নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেই অভিযোগ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। সোমবার সকালে ঋতব্রত সমাজমাধ্যমে এই অভিযোগ পোস্ট করেছেন। যদিও তাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না মমতা শিবির। যদিও ঘনিষ্ঠমহলে এক নেতা বলেছেন, ওদের নথিই নেই তো ছিনতাই করার প্রশ্নও নেই।

এদিকে বারবার নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দিয়েছে মমতা শিবির। সেখানে সময় চেয়ে বারবার পিছিয়ে গিয়েছে ঋতব্রত শিবির। ইতিমধ্যেই তাঁর শিবির তেকে একাধিক বিধায়ক মমতা শিবিরে ফিরেছেন। আবার কয়েকজন দূরত্ব তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে মামলাও রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস দলটি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর খান খান হয়ে যায়। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দেন। আর বিধায়কদের একটা অংশ নিয়ে নিজেদের আস তৃণমূল বলে বিধানসভায় বিরোধী আসন আলো করে বসেছেন ঋতব্রত। রাজ্যে দুটি ভাগ হওয়ার পর দুটি আলাদা প্রতীক দেয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার, ২৬ অক্টোবর কমিশনে তথ্য জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগেই এমন অভিযোগকে সাধারণ মানুষও নাটক হিসাবেই দেখছেন।

আরও পড়ুন:  নতুন ভোটার হতে জানাতে হবে বাবা-মায়ের এসআইআর তথ্য

 

অন্যদিকে মমতা এবং ঋতব্রত তৃণমূল নয়াদিল্লিতে নথি পাঠিয়েছে। মাঝপথে নথি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করলেন ঋতব্রত। এই নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি মমতা শিবির। আগামী ৩০ অক্টোবর দুই তৃণমূলকেই মুখোমুখি বসিয়ে তাদের কথা শুনবে নির্বাচন কমিশন। ওই মুখোমুখি যুক্তি এবং নথির উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কে আসল তৃণমূল এবং কার কাছে তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক থাকবে। কিন্তু নথি ছিনতাইয়ের ঘটনা কেমন করে সম্ভব? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেটার জবাব দিয়েছেন। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অভিষেকের মতো বিনা পুঁজির ব্যবসায়ী সনৎ, গ্রেপ্তারিতে বিস্ফোরক মন্ত্রী অর্জুন সিং

তাছাড়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে জানান, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর রবিবার রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে নিজেদের নথি পাঠিয়েছে দিল্লিতে। ২৪ তারিখ, শনিবার তাঁদের নথিপত্র কর্মীরা নিয়ে দিল্লিতে রওনা দিয়েছেন সড়কপথে। সোমবার সকালে তাঁদের ট্রাক আটকে সেসব নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয় এমন অভিযোগ ঋতব্রতর। যদিও কালীঘাট শিবিরের ওই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছেন তাঁদের সাহসী কর্মীরা। ঋতব্রতর কটাক্ষ, ‘চার্টার্ড সংস্কৃতি এবং তৃণমূল স্তরের মধ্যে একটা ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেল। সবসময় গায়ের জোরে সবকিছু লুটের চেষ্টা সফল হয় না।’ পাল্টা মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কেউ বিশ্বাস করবে? সব গল্প। পুলিশ দিয়ে জোর করে যতজন বিধায়কের সই হয়েছিল, ওতজন বিধায়করা তো এবার সই-ও করেনি। সদস্য-সমর্থক বলে ফর্ম ফিলআপ করানো হয়েছে, এমনকী থানা-পুলিশ করে ওইসব করানো হয়েছে। তাতেও ওদের বিরাট ঘাটতি। কতজন বিধায়ক সই করেছে? সেই জন্য এইসব পুলিশ দিয়ে করিয়েছে মুখ বাঁচাতে। এখন পুলিশ পারছে না বলে কাঁদুনি গাইতে এসেছে। তৃণমূল ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে? হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে। ঘোড়াও হাসবে। বিশ্বাসযোগ্যতাহীন মালপত্র সব।’

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment