রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিপিএমের বুকস্টলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ঘিরে চর্চা চলেছে। পুজো শেষে এবার বই বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বড়সড় বৃদ্ধির দাবি করল সিপিএম। দলের দাবি, গত বছর যেখানে ১২টি জেলায় মোট ৪৮ লক্ষ ৪ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বই বিক্রি বেড়েছে ১০৪ শতাংশেরও বেশি। তবে এই পরিসংখ্যান এখনও চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে দল।
এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল যাদবপুরের ৮-বি বাসস্ট্যান্ডের সিপিএমের বুকস্টল।অভিযোগ, ওই স্টল ভাঙতে বুলডোজার পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছিল। দলীয় কর্মীদের মানববন্ধনের কারণে শেষ পর্যন্ত স্টলটি ভাঙা সম্ভব হয়নি বলে দাবি সিপিএমের। দলের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছর এই স্টল থেকে ৬ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এ বছর সেই বিক্রির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা।
সিপিএমের দাবি, কলকাতাতেও বই বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বছর শহরে ১১৯টি বুকস্টল দিয়েছিল দল।গত বছর এই স্টলগুলি থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ লক্ষ টাকা।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানেও বই বিক্রির বৃদ্ধির দাবি করেছে সিপিএম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গত বছর ৮ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হলেও এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। পশ্চিম বর্ধমানে বই বিক্রির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। পূর্ব বর্ধমানে গত বছর ১ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা।হুগলিতে বই বিক্রি ৭ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা। পূর্ব মেদিনীপুরে গত বছরের ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকার বিক্রি বেড়ে এ বছর দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা।
দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা ও শহরতলিতে সিপিএমের বুকস্টল ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কোথাও স্টল ভাঙচুর আবার কোথাও বই রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল সিপিএম। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুজোর সময় বুকস্টল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বই বিক্রির এই পরিসংখ্যান সামনে এনে সিপিএম দাবি করছে, পাঠকদের মধ্যে বইয়ের চাহিদা বেড়েছে। তবে দল প্রকাশিত হিসাব এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মোট বিক্রির অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।
Leave a Comment