চোরবাগান কাণ্ডে ধৃত কালিয়ার পুলিশি হেফাজত বহাল রাখল আদালত

By Suman Debnath

October 24, 2026 5:45 PM

চোরবাগান কাণ্ডে ধৃত কালিয়ার পুলিশি হেফাজত বহাল রাখল আদালত


চোরবাগান কাণ্ডে নয়া মোড়। পদপিষ্টের ঘটনায় ধৃত কালিয়াকে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপ চত্বরে পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে এ বার ধৃত কালিয়া ও সেন্টুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিশ। ঘটনার সময় মাইক থেকে করা ঘোষণা এবং ধৃতদের কণ্ঠস্বরের মধ্যে মিল রয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে চান তদন্তকারীরা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ঘটনার সময়কার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ভিডিয়ো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্র থেকে মাইকিংয়ের তিন-চারটি অডিয়ো ও ভিডিয়ো ক্লিপ সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েকটি ফুটেজে বিতর্কিত ঘোষণা শোনাও গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই অডিয়ো পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

এ বার আদালতের অনুমতি নিয়ে সেন্টু ও কালিয়ার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ। তার পর ঘটনার সময়কার ঘোষণার অডিয়োর সঙ্গে সেই নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে মণ্ডপ চত্বরে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার সঙ্গে ধৃতদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে জোরকদমে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঘটনার দিন আহত কয়েক জন দর্শনার্থী। এ ছাড়াও ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মী, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন:  শাহের পর শুক্রবার মোদীর ডাকে এনসিপিআই সাংসদরা, শতাব্দী-ইউসুফদের বৈঠক ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা

ঘটনার সময় ঠিক কী ঘোষণা করা হয়েছিল, কে বা কারা মাইক ধরেছিলেন এবং সেই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সমস্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ একত্র করে চার্জশিট তৈরির প্রস্তুতি চলছে। আদালতের অনুমতি মিললে দ্রুত কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান মণ্ডপ চত্বরে প্রবল হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। সেই সময় মাইক থেকে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার জেরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই ঘোষণাটি কে করেছিলেন, তা খুঁজতে শুরু করে পুলিশ।

তদন্তে সন্দেহভাজন দুই ঘোষককে চিহ্নিত করার পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে কুশল মজুমদার শুক্রবার সকালে হেয়ার স্ট্রিট থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন:  ‘বিক্রি তো হয় না’, সিপিএমের বুকস্টল করা নিয়ে মহাষষ্ঠীতে খোঁচা দিলীপের

অন্যদিকে, ঘটনার দিন কী হয়েছিল, তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন কুশল। তাঁর দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই সময় গিরিশ পার্ক থানার আধিকারিকেরা সেখানে এসেছিলেন। তাঁরা চা খেতে চাইলে কুশল ও ক্লাবের অন্য এক সদস্য চা আনতে যান। চা দিয়ে ফিরে কাজ শুরু করার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে একটি শব্দ শুনতে পান তিনি। এর পরেই থানার আধিকারিকেরা ক্লাবঘর থেকে বেরিয়ে যান।

কুশলের দাবি, ক্লাব সম্পাদকের ছেলে কবির তাঁকে জানিয়েছিলেন, মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। বাইরে বেরোনোর সময় পুলিশের এক আধিকারিক তাঁকে মাইকিং করতে বলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্দিষ্ট ঘোষককে দেখতে না পেয়ে তাঁকেই মাইক ধরতে হয় বলে দাবি কুশলের।

নিজের বক্তব্যে কুশল আরও জানিয়েছেন, কবিরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ না করার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর দাবি, একসঙ্গে অতিরিক্ত দর্শনার্থী ঢুকে পড়লে মণ্ডপের ভিত আলগা হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই সতর্কতামূলক ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে সেই ঘোষণার সঙ্গে দুর্ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment