আগরতলা, ২৪ অক্টোবর: জনপ্রতিনিধিদের শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে চলবে না, বাস্তবে উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের পাশে না দাঁড়ালে আগামী দিনে নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে গিয়ে কী জবাব দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত জনপ্রতিনিধিদের। শুক্রবার আগরতলার আমতলীর বৈষ্ণবটিলা এলাকায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করে এই বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
আগরতলা পুরনিগমের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে নির্মিত এই কমিউনিটি হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, বিধায়িকা মীনা রানী সরকার, স্থানীয় কর্পোরেটর হরিসাধন দেবনাথ-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ তাঁদের ওপর আস্থা রেখেই নির্বাচিত করেন। তাই সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের সমস্যা বোঝা, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করাই হওয়া উচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পুরনিগম, বিধানসভা কিংবা লোকসভা—যে কোনও নির্বাচনের ক্ষেত্রেই জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি। নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাই আসল কাজ। নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের কথা ভুলে গেলে চলবে না। নিয়মিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এবং তাঁদের জনগণের স্বার্থেই কাজ করতে হবে। এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা না নিলে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনে ভোট চাইতে গিয়ে জনগণের সামনে কী জবাব দেবেন, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত। মানুষের পাশে থাকা এবং তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়েই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত সাফল্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নের কাজ শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক পরিকাঠামো এবং জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পরিষেবার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উন্নয়নের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এলেই সেই উন্নয়ন প্রকৃত অর্থে সার্থক হবে।
এদিন দেশের মহান মনীষীদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের দেশপ্রেম, আদর্শ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে এগিয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামাঙ্কিত কমিউনিটি হলের উদ্বোধন উপলক্ষে জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম এবং সমাজকল্যাণে কাজ করার মানসিকতার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শ ও চিন্তাধারাকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমতলীর বৈষ্ণবটিলা এলাকায় ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে নির্মিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কমিউনিটি হলটি এলাকার মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে এই নতুন পরিকাঠামো স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়ক হবে।
কমিউনিটি হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বক্তব্যে জনপ্রতিনিধিদের জনসেবার মানসিকতা, দায়বদ্ধতা এবং বাস্তব উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব উঠে আসে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে—জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে এদিন এই বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী।
Leave a Comment