জর্ডনে গির্জায় শেষকৃত্য চলাকালীন বেপরোয়া গুলি বন্দুকবাজদের: হত অন্তত ৭, চরম প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার

By Suman Debnath

October 23, 2026 9:15 PM

জর্ডনে গির্জায় শেষকৃত্য চলাকালীন বেপরোয়া গুলি বন্দুকবাজদের: হত অন্তত ৭, চরম প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার


পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধদীর্ণ আবহে এবার রক্তাক্ত জর্ডন। শুক্রবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারাখ গভর্নরেটের (Karak governorate) একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শেষকৃত্যের প্রার্থনা চলাকালীন অতর্কিতে হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজেরা। প্রার্থনারত শোকাকুল মানষের ওপর অত্যন্ত কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে অন্তত সাত জনকে খুন করেছে হামলাকারীরা। এই নারকীয় ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৪ জন, যাঁদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রক্তক্ষয়ী এই হামলাকে সরাসরি কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ বলে ধিক্কার জানিয়েছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা (King Abdullah II)। তিনি সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার এই চক্রান্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর প্রত্যাঘাত (harshest retaliation) নামিয়ে আনবে সেনা ও প্রশাসন।

 টানা পাঁচ মিনিট গুলিবৃষ্টি

 কারাখের একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামে অবস্থিত ওই গ্রিক অর্থোডক্স গির্জা প্রাঙ্গণে শুক্রবার এক স্থানীয় ব্যক্তির শেষকৃত্যে যোগ দিতে সমবেত হয়েছিলেন বহু মানুষ। জর্ডনের সংবাদমাধ্যম আল-মামলাকাকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, যখন শবযাত্রা গির্জার সামনে পৌঁছয়, ঠিক তখনই তীব্র গতিতে একটি গাড়ি এসে থামে।

 গাড়ি থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত কয়েক জন মুখোশধারী বন্দুকবাজ নেমে চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভিড় লক্ষ্য করে অবিরাম গুলি চালাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় টানা পাঁচ মিনিট ধরে একটানা বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়তে থাকে হামলাকারীরা। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে নিস্তব্ধ শোকসভা নিমেষেই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন একের পর এক রক্তাক্ত মানুষ। কাজ হাসিল করে হামলাকারীরা চোখের পলকে ওই গাড়িতে চেপেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

আরও পড়ুন:  চাকরির টোপে মায়ানমারে বন্দি শতাধিক ভারতীয়, সাইবার প্রতারণায় বাধ্য করার অভিযোগ

দেশজুড়ে হাই-অ্যালার্ট

 খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে জর্ডনের স্পেশাল ফোর্সেস ও দাঙ্গারোধী পুলিশ। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় সামরিক ও সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করানো হয়েছে। জর্ডন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী মহম্মদ আল-মোমানি জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এবং পুরো চক্রান্তের শিকড়ে পৌঁছতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। কারাখের প্রবেশ ও প্রস্থানের সমস্ত পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে।

 এই হামলার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের স্মৃতি নতুন করে ফিরে এসেছে কারাখবাসীর মনে। সে বছর এই কারাখেই পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয় ক্রুসেডার দুর্গে হানা দিয়েছিল আইএস (ISIS) জঙ্গিরা, যার জেরে এক কানাডীয় পর্যটক ও সাত পুলিশকর্মী-সহ মোট দশ জন মারা যান। সাম্প্রতিক সময়ে হামাস, হিজবুল্লা ও ইরানের সঙ্গে ইজরায়েলের সংঘাতের পাশাপাশি সিরিয়া সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গি স্লিপার সেলগুলির কারণে জর্ডনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় টানাপড়েন বাড়ছিল। সেই উত্তেজনার মধ্যেই একটি শান্তিপূর্ণ সংখ্যালঘু খ্রিস্টান পল্লির গির্জাকে নিশানা করায় গভীর চক্রান্তের ছায়া দেখছে গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন:  অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বিগ ব্যাশ এবার ভারতে, উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ের এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে

চরম প্রত্যাঘাতের বার্তা

 ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া বার্তা দিয়েছেন জর্ডনের বাদশাহ রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা। তিনি জানিয়েছেন, জর্ডনের সামাজিক ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের ওপর এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী বর্বরতা কোনওমতেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে এবং এর নেপথ্যে যারা মদত জুগিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে চরম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। জর্ডনের রাজপ্রাসাদের তরফে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষা করতে এক ইঞ্চি জমিও জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশের সমস্ত সম্প্রদায়কে প্ররোচনায় পা না দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment