‘আমি এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি’, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মদন মিত্র

By Suman Debnath

October 23, 2026 11:05 AM

‘আমি এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি’, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মদন মিত্র


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথক দল করে যখন লড়াই করেছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে তখন থেকে তাঁর সঙ্গী ছিলেন মদন মিত্র। পরে ক্ষমতায় আসা মন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে জেল খাটা এবং অবশেষে কামারহাটি থেকে জিতে বিধায়ক হওয়া সবই হয়েছেন তিনি। আর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যেতেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে। দৌড়ে গিয়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। একদা যে নেত্রীকে নিজের মায়ের সমান মনে করতেন তাঁকে নানা ইস্যুতে আক্রমণ করেছেন। সেই মদন মিত্র কি এবার রাজনীতি ছাড়ছেন? তেমনই ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

এদিকে চারবারের জয়ী বিধায়ক দলের ‘অনৈতিক’ কাজ নিয়ে বহুবার নানা কথা বলেছেন। এমনকী সতীর্থদের হয়েও একাধিকবার সুর চড়িয়েছিলেন মিত্র মদন। কিন্তু দুর্গাপুজোর পরই ছন্দপতন। বিজয়া দশমীতেই সরাসরি রাজনীতি ছাড়ার কথা বলছেন মদন! কিন্তু হঠাৎ কী ঘটল? উত্তরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, ‘এখন চালের মধ্যে কাঁকড় বেশি। তেমনই রাজনীতিতেও অধার্মিক-অনৈতিক লোক বেশি। আমি এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি এবং রাজনীতিক হিসেবে নিজের প্রতিও আমার ঘৃণা হয়। আমি কোনওদিন বেইমানি করিনি, আর করবও না। আমার দুঃখ আমি জিতলেও কামারহাটির মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছি না। মানুষের কাছে পৌঁছতে গেলেই আক্রান্ত হচ্ছি। রিভলবার, ছুরি, লোহার রড দেখানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:  টাকা দিলেই ফায়ার সার্টিফিকেট! নিউ মার্কেটের বেআইনি হোটেল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

অন্যদিকে দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। সর্বত্র বিষাদের সুর। তার মধ্যেই কামারহাটির বিধায়কের মনে বিষাদ লক্ষ্য করা গেল। মদন মিত্র শুক্রবার সরাসরি বলেন, ‘জীবনে প্রথম এমন বিজয়া, যাঁরা আমাকে জিতিয়েছে, আমি তাঁদের কাছে যেতে পারলাম না। খুন-সন্ত্রাস-হিংসা-নিরাপত্তার ভয়ে। আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম, তিনিও পুলিশকে বলেছেন। এবার যাব, তাতে যদি মৃত্যু আসে, তাও ভাল। মুখ্যমন্ত্রী সারা বাংলার ঘুরলেন, আমি পারলাম না। বন্দুক নিয়ে খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। আমি জেল খাটার পরেও নির্বাচনে আমার মার্জিন বেড়েছে। বিজয়াটা কেন চোখের জল দিয়ে করতে হবে?’

তাহলে কি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন? এবার এই প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়। তাতে বিচলিত নন কালারফুল নেতা। তাই মদন মিত্রের কথায়, ‘আমি কনফিউসড। আমি চেষ্টা করব, এমন কিছু না করার যাতে মানুষ কষ্ট পায়। এখন একমাত্র কাজ হচ্ছে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। আমি রাজনীতিতে খুব ক্লান্ত। চোখের জলটা আনন্দের। আমার ভিতরের কথাটা বলতে পারলাম। ভুলের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। ক্রিটিকাল সেনসিটিভ জায়গায় আছি। আমি এটা বিশ্বাস করি, ঈশ্বর ছাড়া কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না। এই পুজোয় আমি সেটা বুঝে নিয়েছি। মমতার সম্পর্কে কুৎসিত কথা বললে, মানুষ বলবে কালচার নেই। মমতা-শুভেন্দু দু’জনকেই বিজয়ার শ্রদ্ধা-ভালবাসা জানাই। সবার কাছে আবেদন, অহংকারে মত্ত হয়ে মানুষের কথা ভুলে যাবেন না। আর রাজনীতি করা যাবে না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, আমাদের মতো মানুষের জন্য এটাই শেষ বিজয়া করে দিন। সব করা যাবে, ধর্ম-কর্ম সব। কিন্তু রাজনীতি করা যাবে না। মানুষ আর রাজনীতিবিদদের পছন্দ করছে না।’

আরও পড়ুন:  ঝাড়খন্ডের হোটেল ব‍্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার কলকাতা সার্জেন্ট-সহ দু’জন, ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হবে পড়শি রাজ‍্যে

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment