পাঞ্জাবে মাদকবিরোধী কর্মী ঝোটার খুনে অভিযুক্তের সম্পত্তি ভাঙল প্রশাসন, মেডিক্যাল স্টোরে আগু জনতার

By Suman Debnath

October 14, 2026 4:10 PM

পাঞ্জাবে মাদকবিরোধী কর্মী ঝোটার খুনে অভিযুক্তের সম্পত্তি ভাঙল প্রশাসন, মেডিক্যাল স্টোরে আগু জনতার


পাঞ্জাবের মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটার খুনের মামলায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর আজ মানসা জেলায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তের সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালায় প্রশাসন। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর মেডিক্যাল স্টোর আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার একটি মেডিক্যাল স্টোরে নেশাজাতীয় পদার্থ বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বচসার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ঝোটার। ফেসবুক লাইভ চলাকালীন তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি দেখা যায়। মাদকবিরোধী প্রচারে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই খুনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মেডিক্যাল স্টোরের মালিক অশ্বিনী কুমারকে রাজস্থানের চুরু জেলার সালাসর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পাঞ্জাব ও রাজস্থান পুলিশ। মঙ্গলবার গুলি চালানোর ঘটনার পর মানসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

মানসার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ বৈভব চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রশাসনের অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখানে এসেছি। প্রশাসন পদক্ষেপ করছে। এ বিষয়ে আগাম খবর পাওয়ায় শান্তি বজায় রাখতে বাহিনী নিয়ে এসেছি। বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে তথ্য ছিল। সেই সংক্রান্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে।‘প্রশাসনের ভাঙার কাজের পরেই আরও উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ জনতা অশ্বিনী কুমারের মেডিক্যাল স্টোরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ হওয়া ব্যক্তিদের মুখোমুখি হওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রচারের নথি তুলে ধরার জন্য পরিচিত ছিলেন ঝোটা। মঙ্গলবার মানসার একটি মেডিক্যাল স্টোরে অশ্বিনী কুমারের সঙ্গে বচসার সময় তাঁকে গুলি করা হয়।

আরও পড়ুন:  খসড়া ভোটার তালিকায় নেই রাঘবের নাম, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বললেন বিজেপি সাংসদ 

এক প্রবীণ ব্যক্তির কাছে নেশাজাতীয় পদার্থ বিক্রির অভিযোগ তুলে ওই ওষুধের দোকানের মালিককে প্রশ্ন করেছিলেন ঝোটা। এর পরেই বচসা বাড়ে এবং অশ্বিনী গুলি চালান বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় ঝোটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়, সিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের

পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতাও খুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালেও মাদক বিক্রির অভিযোগে একই দোকানমালিকের সঙ্গে ঝোটার বচসা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

ঝোটার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানান। পরিবারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর শেষকৃত্য করা হবে না বলেও জানা গিয়েছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই জেলবন্দি ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’-র সহযোগী গুরপ্রীত সিংয়ের আত্মীয় মনজিৎ কৌর অভিযোগ করেছেন, ঝোটাকে শ্রদ্ধা জানাতে মানসায় যাওয়া আটকাতে তাঁকে তরন তারনে আটক করেছিল পুলিশ।

মনজিতের দাবি, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ এক মহিলা পুলিশকর্মী-সহ ১৫ থেকে ১৬ জন পুলিশকর্মী তাঁর বাড়িতে আসেন এবং তাঁকে থানায় নিয়ে যান। তিনি এএনআই-কে বলেন, ‘ওরা আমাকে জানিয়েছিল, উপরমহল থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কারণ জানতে চাইলে থানায় যেতে বলা হয়। আমি ফোনে ঘটনাটি রেকর্ড করার চেষ্টা করলে ওরা আমার ফোন কেড়ে নেয়।‘

মনজিতের অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও মানসায় যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।ঝোটার খুনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)।

আরও পড়ুন:  দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, যন্তর মন্তরে বাড়ছে ভিড়

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী প্রচারে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পড়ুয়াদের উপর ‘পুলিশি নির্যাতন’ নিয়ে সরব রাহুল, করলেন সাংবাদিক বৈঠক

ঝোটার মা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলে বারবার নিজের প্রাণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বেশ কয়েক জন তাঁকে খুন করতে চান।

অন্য দিকে, ঝোটার বাবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে তাঁর নাতি-নাতনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে পাঞ্জাব সরকার। তবে মাদকের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা।

দেখুন: দিল্লিতে Congress-এর সাংবাদিক বৈঠকে বার্তা, “ঘৃণার জবাব মিলবে শুধু ভালোবাসায়”

 

 

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment