তুই একটা সন্ত্রাসবাদী: নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, বাংলাদেশে তুলকালাম

By Suman Debnath

October 13, 2026 8:25 PM

তুই একটা সন্ত্রাসবাদী: নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, বাংলাদেশে তুলকালাম


দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে চড়ে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (JFK International Airport) পা রাখতেই নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)। বিমানবন্দরের টার্মিনালে হুইলচেয়ারে বসা নোবেলজয়ীকে ঘিরে ধরে একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তীব্র স্লোগানবাজি করতে থাকে। ইউনূসকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘গণতন্ত্রের খুনি’ তকমা দিয়ে হেনস্থাও করা হয়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে সেই ঘটনার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। এই অনভিপ্রেত আচরণের কড়া নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা।

৮ নম্বর টার্মিনালে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা

 ঘটনাটি ঘটেছে জেএফকে বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে। বিমান থেকে নেমে সহকারীদের সঙ্গে বেরোচ্ছিলেন অশীতিপর ড. ইউনূস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী লামিয়া মোরশেদ। ঠিক সেই মুহূর্তেই টার্মিনালের বাইরে জড়ো হওয়া একদল ব্যক্তি হঠাৎই তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। হুইলচেয়ারে বসে থাকা ইউনূসের একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়ে আঙুল উঁচিয়ে শুরু হয় তীব্র চিৎকার।

 ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা নোবেলজয়ীর উদ্দেশে একের পর এক তোপ দাগছে। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে বাংলাদেশে শত শত পুলিশকর্মীর প্রাণহানি হয়েছে, চিকিৎসার অভাবে মারা গিয়েছে শিশুরা এবং পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করা হয়েছে গণতান্ত্রিক কাঠামো। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে দ্রুত আসরে নামে বিমানবন্দর পুলিশ। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে ইউনূসকে আড়াল করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় এবং তাঁকে টার্মিনালের ভেতরে সুরক্ষিত আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আওয়ামি লিগের সন্ত্রাস?

আরও পড়ুন:  ৮ যুদ্ধ থামিয়েছি, তবুও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্পের আক্ষেপ

 নিউ ইয়র্কের এই ঘটনার নেপথ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামি লিগের (Awami League) প্রবাসী সংগঠনের হাত রয়েছে বলে স্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর সাফ কথা, এটি কোনও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নয়, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস। এর আগে জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সরকারের প্রতিনিধিদের উপরেও বিদেশে একই কায়দায় আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়েছিল।প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও প্রোটোকল বা ব্যবস্থাপনার খামতি (security lapses) ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও। সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, একজন অসুস্থ মানুষের হুইলচেয়ার আটকে চিৎকার করলেই তাঁর আন্তর্জাতিক মর্যাদা ধুলোয় মিশে যায় না। বিশ্বজুড়ে ড. ইউনূসের যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা সংকীর্ণ রাজনৈতিক অন্ধত্ব দিয়ে মুছে ফেলা অসম্ভব।

আরও পড়ুন:  ভয়াবহ বন্যার পর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, পর্যটকদের জন্য সতর্কতা জারি নেপালে

তিক্ত রাজনীতির প্রতিচ্ছবি

 ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের মসনদে বসেছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূস। তবে ক্ষমতা ছাড়ার পরেও দেশের অন্দরে তাঁর শাসনকালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। এবার সেই ঘরোয়া তিক্ততার আঁচ গিয়ে আছড়ে পড়ল আমেরিকার মাটিতেও। ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে মার্কিন আইনের সাহায্য নিতে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment