মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগে হাইকোর্টে অভিষেক, দ্রুত শুনানির সুযোগ খারিজ আদালতের

By Suman Debnath

October 13, 2026 5:30 PM

মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগে হাইকোর্টে অভিষেক, দ্রুত শুনানির সুযোগ খারিজ আদালতের


তদন্তের গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে কী প্রশ্ন করা হচ্ছে? কী উত্তর দিচ্ছেন তিনি? তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কীভাবে প্রকাশ্যে আসছে সেই সব তথ্য? সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আপাতত সেই মামলায় দ্রুত শুনানির সুযোগ মিলল না।

মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে মামলাটি শোনার অবকাশ নেই। আগামী ডিসেম্বরের তালিকায় মামলাটি রাখা যেতে পারে। অভিষেকের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তের অগ্রগতি, তদন্তকারীদের করা প্রশ্ন, তাঁর উত্তর এবং তদন্তের নানা খুঁটিনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের একাংশের মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁর আইনজীবী।

তাঁর দাবি, যাচাই না করা তথ্য, অনুমাননির্ভর খবর এবং চাঞ্চল্যকর প্রচারের মাধ্যমে কার্যত জনসমক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। কিন্তু আদালত এখনই শুনানিতে রাজি হয়নি। ফলে তদন্তের তথ্য ফাঁস এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বন্ধের দাবিতে তৃণমূল সাংসদের আইনি লড়াই আপাতত অপেক্ষায়।

আরও পড়ুন:  রাজ্যে এসটিএফের বড়সড় অভিযান, উদ্ধার ৯০ কেজি গাঁজা-সহ ব্রাউন সুগার, গ্রেপ্তার ৬

অভিষেকের আবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ১১ জুন ভবানী ভবনে কথিত স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তদন্তকারীদের প্রশ্ন, তাঁর কথোপকথন এবং আচরণ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এমনকী ‘২৫টি ব্যাগ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া’র মতো ভিত্তিহীন খবরও প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পক্ষের।

চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক জীবন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের প্রচার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও সুনামের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। সেই সঙ্গে তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং ভবিষ্যতের বিচারপ্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর আইনজীবী।

অভিষেকের পক্ষ থেকে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন তথ্য প্রকাশ এবং অনুমাননির্ভর প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এর আগে মামলাটি শুনতে চাননি বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তিনি জানিয়েছিলেন, মামলাটি খারিজ করা হচ্ছে না। উপযুক্ত বেঞ্চের শুনানি হওয়া প্রয়োজন। সেই সূত্রেই মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আসে।

আরও পড়ুন:  ছ’দশকের বসতি, আচমকাই জল বন্ধ! উচ্ছেদের আতঙ্কে জ্যোতিনগর, মানবিক হস্তক্ষেপ বিচারপতির

আরও পড়ুন: পুজোতেও জেলমুক্তি নয় সুজিতের, জামিন খারিজ হাইকোর্টে

তবে আপাতত অভিষেকের আবেদনের মূল অভিযোগ নিয়ে আদালতের কোনও সিদ্ধান্ত হল না। মামলাটি খারিজও হয়নি। আবার দ্রুত শুনানির আবেদনেও সাড়া মেলেনি।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment