‘দিল্লি-বাংলাদেশে যান, ভারতবর্ষে একটা ফ্যাশন রয়েছে’, মমতা-সিজেপিকে খোঁচা দিলীপের

By Suman Debnath

October 11, 2026 11:55 AM

‘দিল্লি-বাংলাদেশে যান, ভারতবর্ষে একটা ফ্যাশন রয়েছে’, মমতা-সিজেপিকে খোঁচা দিলীপের


জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সেটা ক্রমাগত বৃহত্তর আকারের রূপ নিচ্ছে। একদিকে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন চরমে তুলেছে অপরদিকে দেশের তামাম বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এককাট্টা হয়ে আন্দোলনের ঝাঁঝ তুঙ্গে তুলেছে। সবমিলিয়ে উত্তাল হয়েছে দিল্লি থেকে মুম্বাই। রবিবারও সিজেপি আন্দোলন করার বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার  ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ-আন্দোলন চলবে। সিজেপির এই আন্দোলনকে বিজেপি বিদেশি শক্তির মদত আছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে। এবার একই দাবি করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই আন্দোলনকে ‘ফ্যাশন’ কটাক্ষ করার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধেছেন তিনি।

এদিকে নয়াদিল্লিতে আটক করা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে তিনি ভোট চুরির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন। আর সেটা খবরে ভেসে থাকার জন্য বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। রবিবার সকালে ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। সেখানেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দিল্লি কেন বাংলাদেশও চলে যান। কোনও লাভ হবে না। তৃণমূলকে মানুষ বর্জন করেছে। আর  ককরোচ আন্দোলনে বিদেশি অর্থসাহায্য ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত কাজ করছে। খবরে ভেসে থাকার জন্য এই কাজ করতে হচ্ছে। সম্পূর্ণভাবে মানুষের দ্বারা বর্জিত। এমনকী রেজিনগরের মতো আসন যা তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ছিল। সেখানে তৃণমূলের দুই দল মিলিয়ে ৩ শতাংশ ভোটও পায়নি। এই ধরনের পার্টির অস্তিত্ব কী আছে। দিল্লিতে যান, বাংলাদেশে আন্দোলন হচ্ছে। খবরে ভেসে থাকার জন্য সেখানেও চলে যান। তাতে পার্টির কোনও লাভ হবে না।’

আরও পড়ুন:  দৈনিক স্টেটসম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস

অন্যদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লির রাজপথ। ককরোচদের আন্দোলন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনের জেরে দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘আগেও এরকম অনেকদিন ধরে আন্দোলন হয়েছে। এটাও কিছুদিন চলবে। যাঁদের কোনও কাজ নেই, তাঁরাই আন্দোলন করেন। আন্দোলন হোক না। অনেকে একমাস ধরে অবস্থান করেছে। ভারতবর্ষে একটা ফ্যাশন রয়েছে, কিছু লোকের আন্দোলন করার। কাজ না থাকলে চল আন্দোলন করি। বিদেশি ফান্ডিং, এদিক-ওদিক, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির খেলনা হয়ে এরা এসব করতেই থাকে। কিছুদিন চলবে।’

তাছাড়া সিজেপির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রবিবার তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন। তবে আন্দোলন তাঁরা জারি রাখবেন বলেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা। সোমবার ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে খবর। তবে এসবে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাই দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘এটা চক্রান্ত বোঝাই যাচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মানুষের স্বার্থে। ওরা আন্দোলন করছে করুক।’

আরও পড়ুন:  মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইন কাণ্ডে পাঁচ জনকে শোকজ স্বাস্থ্যদপ্তরের

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment