---Advertisement---

এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের আঁচ, ভুয়ো তথ্য রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর কেন্দ্রের

By Suman Debnath

October 9, 2026 9:05 PM

এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের আঁচ, ভুয়ো তথ্য রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর কেন্দ্রের

---Advertisement---


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের প্রচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। ৮ অক্টোবর জারি করা বিশেষ নির্দেশিকায় সমস্ত বড় সামাজিক মাধ্যম সংস্থাকে আন্দোলন সংক্রান্ত বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, চলমান গণআন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের পাতায় মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিকৃত কিংবা প্রেক্ষাপটহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে এই ধরনের বিষয়বস্তুকে সাম্প্রতিক ও বাস্তব ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, এর জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়া এবং হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

কী কী নির্দেশ কেন্দ্রের?

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিধি, ২০২১-এর আওতায় বেআইনি ও উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলিকে। এই ধরনের পোস্টের প্রচার বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও নিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে, এমন কোনও পোস্ট নিয়ে অনুমোদিত সরকারি সংস্থা অভিযোগ জানালে তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বা বিকৃত ছবি ও ভিডিয়ো নিয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র। এআই দিয়ে তৈরি কোনও ছবি বা ভিডিয়োকে সাম্প্রতিক বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলে, সেটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি বা বিকৃত বিষয়বস্তু হিসেবে স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিষয়টির প্রকৃত তথ্য ও প্রেক্ষাপটও তুলে ধরতে হবে।

শুধু বিষয়বস্তু চিহ্নিত করা নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতন করার উপরেও জোর দিয়েছে মন্ত্রক। কোনও খবর, ছবি বা ভিডিয়ো ভাগ করে নেওয়ার আগে তার সত্যতা, মূল উৎস এবং সময়কাল যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে নিয়মিত প্রচার চালাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অনুমোদিত সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলিকে। তথ্যপ্রযুক্তি বিধি, ২০২১-এ নির্ধারিত সময়সীমা মেনে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হওয়ার আবহে ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচার ঠেকাতেই কেন্দ্রের এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই নির্দেশিকার প্রয়োগে বেআইনি বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তথ্যপ্রচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও নজর থাকবে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment