আজ রাতেই মহাকাশে বিরল দৃশ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে শনি, উজ্জ্বল হবে বলয়ও

By Suman Debnath

October 4, 2026 3:55 PM

আজ রাতেই মহাকাশে বিরল দৃশ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে শনি, উজ্জ্বল হবে বলয়ও


আকাশপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য আজ রাতটি হতে চলেছে বিশেষ। ৪ অক্টোবর পৃথিবীর একেবারে বিপরীত দিকে অবস্থান করবে সৌরজগতের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রহ শনি। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থানকে বলা হয় ‘অপোজিশন’। এর ফলে পৃথিবী থেকে শনিকে তুলনামূলক ভাবে কাছে ও উজ্জ্বল দেখাবে। একই সঙ্গে বিশেষ আলোক প্রতিফলনের কারণে শনির বলয়ও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝকঝকে দেখাতে পারে।

এই ঘটনাকে বলা হয় ‘সিলিগার এফেক্ট’ বা ‘অপোজিশন সার্জ’। পৃথিবী যখন সূর্য ও কোনও দূরবর্তী গ্রহের মাঝখানে চলে আসে, তখন সেই গ্রহকে সূর্যের ঠিক বিপরীত দিকে দেখা যায়। ৪ অক্টোবর শনির ক্ষেত্রেও তৈরি হবে তেমনই পরিস্থিতি।

আর্থস্কাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট নাগাদ শনির ‘অপোজিশন’ হবে। সেই সময় পৃথিবী থেকে শনির দূরত্ব থাকবে প্রায় ১২৬ কোটি কিলোমিটার। শনির উজ্জ্বলতা থাকবে প্রায় ০.৩ ম্যাগনিটিউড। ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই রাতের আকাশে শনিকে সহজে চেনা যাবে।

আরও পড়ুন:  নিঠারিকাণ্ডে বেকসুর খালাস সুরিন্দর কোলির রহস্যজনক মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন, উঠল প্রশ্ন  

ভারত থেকে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিট নাগাদ পূর্ব আকাশে শনির উদয় হবে। রাত ১২টা ১৭ মিনিটে আকাশে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে পৌঁছবে গ্রহটি। এরপর ৫ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৩ মিনিট নাগাদ শনির অস্ত যাবে। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় গোটা রাতই শনিকে দেখার সুযোগ থাকবে।

শুধু উজ্জ্বলতাই নয়, শনির বলয়ও এই সময় বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী হুগো ফন সিলিগারের নাম থেকেই ‘সিলিগার এফেক্ট’-এর নামকরণ। শনির বলয় তৈরি হয়েছে মূলত অসংখ্য বরফের কণা দিয়ে। সাধারণ সময়ে এক কণা অন্য কণার উপর ছায়া তৈরি করে। কিন্তু অপোজিশনের সময় সূর্য, পৃথিবী ও শনি প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করায় সূর্যের আলো বলয়ের কণাগুলির উপর প্রায় সরাসরি পড়ে। ফলে ছায়া অনেকটাই আড়ালে চলে যায় এবং বলয় তুলনামূলক বেশি উজ্জ্বল দেখায়।

আরও পড়ুন:  জাতীয় ক্রীড়া দিবসের আগে ১৫০০ জায়গা থেকে যুবকদের সঙ্গে মোদীর সরাসরি সংযোগ

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে টেলিস্কোপে শনির বলয়ের এই উজ্জ্বলতা বিশেষ ভাবে নজরে আসতে পারে। খালি চোখে অবশ্য বলয় দেখা সম্ভব নয়। তবে সন্ধ্যার পর পূর্ব আকাশে শনিকে একটি উজ্জ্বল ও স্থির আলোর বিন্দুর মতো দেখা যাবে। সাধারণ টেলিস্কোপ থাকলে সেই দৃশ্য আরও স্পষ্ট হবে।

২০২৫ সালের মার্চে শনির বলয় পৃথিবীর দৃষ্টির সঙ্গে প্রায় সরলরেখায় চলে এসেছিল। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেই পরিস্থিতি বদলে গিয়ে বলয়টি ফের প্রায় ৭.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে দৃশ্যমান হচ্ছে। ফলে ভালো মানের টেলিস্কোপে শনির বলয় তো বটেই, বলয়ের মধ্যে থাকা ‘কাসিনি ডিভিশন’-এর মতো ফাঁকও দেখা যেতে পারে।

তাই আজ রাতের পরিষ্কার আকাশে পূর্ব দিগন্তের দিকে নজর রাখলেই মিলতে পারে সৌরজগতের অন্যতম সুন্দর গ্রহ শনির বিশেষ দর্শন। আর টেলিস্কোপ থাকলে সেই অভিজ্ঞতা আরও মনোমুগ্ধকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment