বিরোধী দলনেতার আবেদন ধোপে টিকল না, অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না হাইকোর্ট

By Suman Debnath

October 1, 2026 6:50 PM

বিরোধী দলনেতার আবেদন ধোপে টিকল না, অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না হাইকোর্ট


বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে আইনি টানাপোড়েনে আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন ঋতব্রতের আইনজীবী জয়দীপ কর। সেই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত একক বেঞ্চ থেকে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে চলা মামলায় এ দিন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর তরফে হলফনামা জমা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর আগে গত ১৮ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছিল, আগামী দু’মাসের জন্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃত থাকবেন। তবে এই স্বীকৃতি ছিল অন্তর্বর্তী ভিত্তিতে। বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া হয়েছিল সিঙ্গল বেঞ্চের উপর।

আরও পড়ুন:  ‘আমিও দল ছাড়ব’! শর্ত দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট বার্তা কল্যাণের

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলাটি ফের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে যায়। হলফনামা আদানপ্রদানের পর দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তির জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই মামলার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই। নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায় তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তী সময়ে দলের অন্দরে তৈরি হয় মতবিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তুলে ধরেন। এর আগেই, ১ জুন দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুনানিতে অধ্যক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, ৫৮ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষের সামনে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনও পথ ছিল না।

আরও পড়ুন:  ১৫ বছরে কত দুর্নীতি? ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সব প্রকল্প খতিয়ে দেখবে নবান্ন

মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চও পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছিল। একই দলের বিধায়কদের মধ্যে এক পক্ষ ক্ষমতাবান এবং অন্য পক্ষ ক্ষমতাহীন, এমন পরিস্থিতিতে স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে। তবে বিরোধী দলনেতা পদে শেষ পর্যন্ত কে থাকবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। ডিভিশন বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি বহাল থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সিঙ্গল বেঞ্চের।

আরও পড়ুন: নিম্নচাপের প্রভাবে ফের ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস! সপ্তাহান্তে ভিজবে উত্তর-দক্ষিণ?

আগামী ৭ ও ৮ অক্টোবর ফের মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। ফলে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment