মাঝআকাশে তেল আভিভগামী বিমানে বিপদ সংকেত, ইজরায়েলে আতঙ্কের ছায়া

By Suman Debnath

September 30, 2026 2:35 PM

মাঝআকাশে তেল আভিভগামী বিমানে বিপদ সংকেত, ইজরায়েলে আতঙ্কের ছায়া


এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে হঠাৎই হাইজ্যাক অ্যালার্ট। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী বিমান সেই সময় মাঝ আকাশে। বিমানের ভিতরে তখন ১৮০ জন যাত্রী। জরুরি সংকেত পাঠানোর পরেই ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের গতিপথ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে। যদিও ইজরায়েল অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেনি। গোটা ঘটনাকে ঘিরে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ইজরায়েলের যাওয়ার সময় হঠাৎই গতিপথ পরিবর্তন করে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, বিমানটি প্রথমে ৭৭০০ জরুরি সংকেত পাঠায়। বিমান চলাচলে এই কোড সাধারণত জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। তারপরেই আবার ৭৫০০ কোড দেখা যায়, যা বিমান ছিনতাই বা বেআইনি ভাবে দখল করা হয়েছে বলে বোঝায়। তবে ৭৫০০ কোডটি ব্যবহারের বিষয়ে সঠিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আরও পড়ুন:  গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের চুক্তি, বদলাবে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ

দুবাই থেকে বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং-এর ডেটা অনুযায়ী, গতিপথ পাল্টানোর আগে বিমানের উচ্চতায় হঠাৎই পরিবর্তন দেখা যায়। সেই সঙ্গে গতিতেও ওঠানামা করতে দেখা যায়। প্রথমে বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। এরপরে তাবুক বিমানবন্দরের দিকে এগোতে শুরু করে। এক সময়ে বিমানটি আর ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলিতে দেখা যায়নি।

তেল আভিভের দিকে না গিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের দিকে ফিরে আসে। এরপরে সেটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণ করে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইজরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি সংকেত পাওয়ার পরেই ইজরায়েলি বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি বিমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রওনা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

আরও পড়ুন:  ড্রোনের মুখোমুখি জেলেনস্কির বিমান, অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা

আরও পড়ুন: বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানে সফটওয়্যারে ত্রুটি, প্রভাবিত হতে পারে ভারতে ৯৬টি বিমান

প্রাথমিকভাবে গোটা ঘটনায় অপহরণের আতঙ্ক ছড়ালেও পরে জানা যায়, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে অন্য কারণ। ককপিটেই দুই পাইলটের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এরপরে তাঁরা মাঝআকাশ থেকে বিপদ সংকেত পাঠান। কিন্তু ইচ্চাকৃতভাবে না কি অন্য কোনও কারণে সিগন্যাল পাঠানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ১৮০ জন যাত্রীই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment