৬০০ কোটির সম্পত্তি, ফিরল মাত্র ৫৫ কোটি! রোজভ্যালি কাণ্ডে এডিসি-কে চুড়ান্ত সময়সীমা হাইকোর্টের

By Suman Debnath

September 29, 2026 3:45 PM

৬০০ কোটির সম্পত্তি, ফিরল মাত্র ৫৫ কোটি! রোজভ্যালি কাণ্ডে এডিসি-কে চুড়ান্ত সময়সীমা হাইকোর্টের


রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর কাজে অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটির ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০১৫ থেকে ২০২৬, দীর্ঘ ১১ বছরের কাজের হিসাব খতিয়ে দেখে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সম্পত্তি বিক্রি এবং সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের মূল দায়িত্বই ঠিকমতো পালন করতে পারেনি এডিসি।

মঙ্গলবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোই এডিসি-র মূল ক্ষমতা ও দায়িত্ব। এর বাইরে হোটেল পরিচালনা বা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করার ক্ষমতা কমিটির ছিল না।

এই প্রেক্ষিতেই সহযোগী সংস্থা চকলেট হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেডের তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। অনুমোদনহীন ওই চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের সামনে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক পরিসংখ্যান। এডিসির-র তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আমানতকারীদের মধ্যে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৫.৪৫ কোটি টাকা। ১১ বছরে নিলাম হয়েছে মাত্র ১০টি সম্পত্তির। মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে ৮০টি সম্পত্তির। এমনকী আমানতকারীদের কাছে পৌঁছতে কমিটির প্রচারও হয়েছে মাত্র দু’বার।

আরও পড়ুন:  ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের কথা বলতেন, মনে চলত বিভাজনের রাজনীতি’, মমতাকে তোপ নিশীথের

ফলে বিপুল সংখ্যক আমানতকারী এখনও ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়ার বাইরে, এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের। এ বার আর বাড়তি সময় নয়। এডিসিকে শেষবারের মতো পাঁচ মাস সময় দিল হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা ৫৫০ কোটি টাকা ৩২,৪৩,২২০টি মুলতুবি দাবির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

শুধু তাই নয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে বাকি সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়াও শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে আদালতে জমা দিতে হবে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট। এর পরেও যদি কাজ বাকি থাকে, এডিসি-র হাতে আর সেই দায়িত্ব থাকবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অবশিষ্ট কাজ তুলে দেওয়া হবে এক সদস্যের কমিটির হাতে। পাঁচ মাস পর এডিসি-কে বিচারপতি এস পি তালুকদার কমিটির সঙ্গে একীভূত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:  কলকাতার নামী হোটেলে একযোগে হানা পুলিশ-এসটিএফের, বিরাট মাদক চক্রের পর্দাফাঁস

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে ভোটের আগে বড় স্বস্তি কংগ্রেসের, জামিন মিলন প্রধানের

রোজভ্যালি মামলায় তদন্তও এবার আরও জোরদার করার নির্দেশ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ফরেন্সিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে SFIO-কে। সেই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত না হওয়া সম্পত্তি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকেও। অর্থাৎ, দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট, আর ঢিলেমি নয়, এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পত্তি বিক্রি এবং টাকা ফেরত দিতে হবে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment