---Advertisement---

Explainer: ৪০ দিন পার, তবু চলছে বাদল অধিবেশন: সংসদের অন্দরে কোন কৌশল সাজাচ্ছে কেন্দ্র?

By Suman Debnath

September 22, 2026 3:25 PM

Explainer: ৪০ দিন পার, তবু চলছে বাদল অধিবেশন: সংসদের অন্দরে কোন কৌশল সাজাচ্ছে কেন্দ্র?

---Advertisement---


এবার সংসদের বাদল অধিবেশন (Monsoon Session) নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। গত ১৩ আগস্ট সংসদের উভয় কক্ষ মুলতুবি (sine die adjournment) হয়ে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে অধিবেশনের অবসান অর্থাৎ প্রোরোগেশন (prorogation) এখনও হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত হিসেব বলছে, ৪০ দিন কেটে গিয়েছে, অথচ রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এমন কোনও বিজ্ঞপ্তি আসেনি, যাতে বলা হয়েছে বাদল অধিবেশন সমাপ্ত। প্রাক্তন লোকসভা সচিব পিডিটি আচারির মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ কার্যত খোলা থাকার নজির এর আগে দেখা যায়নি। এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সময় সংসদ খোলা ছিল ২০১৫ সালে, তখন সময়টা ছিল ২৮ দিনের। আর এখানেই তাই কেন্দ্রের কৌশল নিয়ে নানা জল্পনা উসকে উঠছে।

সংবিধান কী বলছে

সংবিধানের ৮৫ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 85) অনুযায়ী সংসদের কোনও কক্ষ প্রোরোগ বা আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করার ক্ষমতা একমাত্র আছে রাষ্ট্রপতির। তবে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ মেনেই। অর্থাৎ, অধিবেশন মুলতুবি আর প্রোরোগেশনের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট। মুলতুবি হলে অধিবেশনের কাজকর্ম থেমে যায় ঠিকই, কিন্তু অধিবেশন আইনের চোখে চলতেই থাকে। মানে, যতক্ষণ না প্রোরোগেশন হচ্ছে, ততক্ষণ সরকার চাইলে যে কোনও মুহূর্তে সাংসদদের ফের ডেকে পাঠাতে পারে। এর জন্য নতুন করে অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হয় না। উল্টো দিকে, প্রোরোগেশন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র কোনও অর্ডিন্যান্স (ordinance) জারির পথও ব্যবহার করতে পারে না, কারণ সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ (Article 123) অনুযায়ী অধিবেশন চলাকালীন অর্ডিন্যান্স আনার কোনও সুযোগ নেই।

কেন এই দীর্ঘসূত্রতা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ব্যাখ্যা, এর নেপথ্যে রয়েছে মহিলা সংরক্ষণ ও লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস তথা ডিলিমিটেশন (Delimitation) সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করানোর তাগিদ। এপ্রিল মাসে বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ এবং ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬ পেশ হলেও প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। এই দুই বিলের লক্ষ্য ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (Nari Shakti Vandan Adhiniyam) কার্যকর করা, যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার শর্তই হল নতুন জনগণনা এবং তার ভিত্তিতে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস। যেহেতু জনগণনা বিলম্বিত, তাই ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই ডিলিমিটেশন সারতে চাইছে কেন্দ্র, আর এখানেই আপত্তি বিরোধীদের।

দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলি, বিশেষত ডিএমকে (DMK), আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে জনসংখ্যা ভিত্তিক কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির লোকসভা প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। সেই আপত্তি প্রশমিত করতে কেন্দ্র সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সমান হারে আসন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, কংগ্রেসের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক জয়রাম রমেশ বারবার এই বিলম্ব অর্থাৎ, কেন বাদল অধিবেশনের এখনও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কটাক্ষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার খোঁজেই ব্যস্ত।

সরকারের কৌশল

এখানেই লুকিয়ে মোদী সরকারের আসল চাল। অধিবেশন প্রোরোগ না করে খোলা রাখলে নতুন করে অধিবেশন ডাকার প্রক্রিয়াগত ঝক্কি এড়ানো যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ মিলে গেলেই স্বল্প নোটিসে সাংসদদের ডেকে তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশনে বিল দু’টি পাশ করিয়ে নেওয়াই কেন্দ্রের লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ অধিবেশন এভাবে নীরবে কার্যকর রাখাটা নিছক প্রশাসনিক শৈথিল্য নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এর পর কী

সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্ট বলছে, চলতি মাসের মধ্যেই তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। সেই অধিবেশনেই ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল ফের পেশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে বিরোধীদের ঐক্য এবং সংখ্যাতত্ত্বের সমীকরণ কেন্দ্রের পক্ষে কতটা যাচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করছে গোটা প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment